উল্লাপাড়ায় বৃদ্ধ হত্যা মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের ক্ষোভসিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ঘরে সিঁধ কেটে বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নিহত সোবহান প্রামাণিকের স্বজনরা।সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী শেফালী খাতুন বলেন, উল্লাপাড়া উপজেলার দত্তপাড়া এলংজানি গ্রামের বাসিন্দা সোবহান প্রামাণিকের ছেলে সেলিম রেজা ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অপহরণের শিকার হন। এ ঘটনায় একই গ্রামের মোসাব্বর আলীর ছেলে বাবুল প্রামাণিকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে দাবি পরিবারের।তাদের অভিযোগ, পূর্ব বিরোধের জেরে গত ১০ মে রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে সোবহান প্রামাণিককে কুপিয়ে হত্যা করে। হামলায় গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী শেফালী খাতুনও।এ ঘটনায় নিহতের ছেলে গোলাম সবুর বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে উল্লাপাড়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পুলিশ আসামিদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে পরিচালনার চেষ্টা করছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো বাদীপক্ষের লোকজনকে আটক করে নির্যাতনের মাধ্যমে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।এছাড়া গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে আছেন এবং এই সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন নিহতের স্ত্রী শেফালী খাতুন, ছেলে মাসুদ রানা, মামলার বাদী গোলাম সবুর ও ইতি বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামি আব্দুল আজিজ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আরও দুইজন রিমান্ডে আছেন এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”ওসি আরও বলেন, “দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।”