ডেঙ্গু আতঙ্কের আগেই মাঠে সরকার, কাল থেকে দেশজুড়ে চিকিৎসক প্রশিক্ষণডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রকোপ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার করেছে সরকার। চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।সোমবার (১ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এটিএম সাইফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ডা. হালিমুর রশীদ, হাসপাতাল বিভাগের পরিচালক এএইচএম মইনুল আহসান এবং সোসাইটি অব মেডিসিনের নেতৃবৃন্দ।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে। বছরের এই সময়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা থাকায় সরকার কোনো ধরনের বিলম্ব করতে চায় না। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু হয়েছে।তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন বিষয়ে সারা দেশের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেবে সোসাইটি অব মেডিসিন। আগামীকাল থেকে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তা সম্প্রসারিত করা হবে।মন্ত্রী আরও জানান, ডেঙ্গু শনাক্তকরণে প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট ও চিকিৎসাসামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। পাশাপাশি স্যালাইনসহ অন্যান্য জরুরি সরঞ্জাম অতিরিক্তভাবে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।ডেঙ্গুর উৎসস্থল নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দায়িত্ব সিটি করপোরেশনগুলো পালন করবে।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম একযোগে পরিচালনা করা হবে।