ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পান্নু ফকির ওরফে জামু ফকির (৪০) নামে এক বিএনপি কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের কুমারকান্দা হাফেজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।নিহত জামু ফকির উপজেলার কুমারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত রহমান ফকিরের ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় লোকজন জগন্নাথদী-কুমারকান্দা সড়কের পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি জামু ফকিরের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।স্থানীয়দের ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহত জামু ফকির স্থানীয় বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। স্বজনদের দাবি, পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক নানা মামলার কারণে তিনি দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া জীবনযাপন করেছেন।নিহতের স্ত্রী রুপা বেগম অভিযোগ করেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি একটি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রতিবেশীরা বাধা দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেয়। বুধবার সন্ধ্যায় থানায় যাওয়ার পর বাড়ি ফেরার পথে তার স্বামী নিখোঁজ হন বলে তিনি দাবি করেন।কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমাদের মাত্র দুই দিনের একটি নবজাতক সন্তান রয়েছে। আমার স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ আল ফাহাদ জানান, মরদেহের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাশের একটি পাটক্ষেতে হত্যার পর মরদেহ সড়কের ওপর ফেলে রাখা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে।