বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া নরওয়ে এবার চোখ রাখছে আরও বড় সাফল্যের দিকে। শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে সামনে পেয়েও ভয় নয়, বরং কঠিন এক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন দলটির অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড।শনিবার (বাংলাদেশ সময়) দিবাগত রাত ৩টায় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ওডেগার্ড বলেন, ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।তিনি বলেন, “ইংল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তাদের স্কোয়াডে বিশ্বমানের অনেক ফুটবলার রয়েছে। আমরা জানি ম্যাচটি আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে। তবে আমরা এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।”ওডেগার্ড মনে করিয়ে দেন, ব্রাজিলের বিপক্ষেও নরওয়েকে আন্ডারডগ হিসেবে দেখা হয়েছিল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সব হিসাব বদলে দিয়ে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় তার দল।তিনি বলেন, “ব্রাজিলের বিপক্ষেও আমাদের খুব একটা সুযোগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু ফুটবলে যেকোনো কিছুই সম্ভব। আমরা আবারও নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। এই ম্যাচটির জন্য আমরা মুখিয়ে আছি।”আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার জানান, ইংল্যান্ডের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের সঙ্গে নরওয়ের ফুটবলারদের দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। কারণ দলের অনেকেই ইংলিশ লিগে নিয়মিত খেলেন।তার ভাষায়, “আমরা অনেকেই ইংল্যান্ডে খেলি, তাই তাদের সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে। তবে এটি কোনো ব্যক্তিগত লড়াই নয়; এটি দুটি দলের লড়াই। প্রতিপক্ষকে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে, পাশাপাশি নিজেদের শক্তির ওপরও আস্থা রাখতে হবে।”বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ড রয়েছে চতুর্থ স্থানে। অন্যদিকে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ১২ ধাপ এগিয়ে ১৯ নম্বরে উঠে এসেছে নরওয়ে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত রয়েছে ইংল্যান্ড।তবু নিজেদের আন্ডারডগ পরিচয় নিয়েই আশাবাদী ওডেগার্ড। তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই বিশ্বকে দেখিয়েছি যে আমরা একটি ভালো দল। আবারও আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামব, কিন্তু সেটিই শেষ কথা নয়। আমরা নিজেদের সেরাটা খেলব, মুহূর্তগুলো উপভোগ করব, তারপর দেখা যাবে কী হয়।”ব্রাজিলকে বিদায় দিয়ে যে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে নরওয়ে, সেই প্রেরণাকেই পুঁজি করে এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছেন ওডেগার্ড ও তার সতীর্থরা।