সিরাজগঞ্জে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কর্মময় জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও গণমানুষের অধিকার আদায়ে তাঁর অবদান স্মরণে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা ভাসানীর জন্মভিটায় একটি পাঁচতলা ‘ভাসানী কমপ্লেক্স’ নির্মাণ এবং তাঁর নামে সিরাজগঞ্জে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় পৌর এলাকার সয়াধানগড়া (উত্তরপাড়া) হাজী শরাফত আলী খান ও মজিরণ নেছা বিবি পাঠশালা প্রাঙ্গণে মওলানা ভাসানী স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি ও খোদা-ই-খেদমতগারের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) শাহাদাত হুসেইন।বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান বাচ্চু, চেম্বারের পরিচালক ও হাজী আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাজী মো. আব্দুস সাত্তার, হাজী শরাফত আলী খান ও মজিরণ নেছা বিবি পাঠশালার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খোকন এবং মওলানা ভাসানী ভক্ত, কবি ও কবিতা পরিষদ-সিরাজগঞ্জের সাবেক অর্থ সম্পাদক চিকিৎসক তছির উদ্দিন শেখ।সভায় সভাপতিত্ব করেন ন্যাপ (ভাসানী) পার্টির চেয়ারম্যান এবং মওলানা ভাসানী স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি ও খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি হাসরত খান ভাসানী। এছাড়া বক্তব্য দেন মওলানা ভাসানী পরিষদের সদস্য সচিব লতিফুর রহমান খান (লিটন)সহ অন্যান্য বক্তারা।বক্তারা বলেন, সিরাজগঞ্জের সয়াধানগড়ায় মওলানা ভাসানীর জন্মভিটায় একটি আধুনিক পাঁচতলা ‘ভাসানী কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করা হলে তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম তাঁর আদর্শ ও সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে জানতে পারবে। প্রস্তাবিত কমপ্লেক্সে ক্যাফেটেরিয়া, নামাজঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আধুনিক অডিটোরিয়াম, ভাসানী জাদুঘর, পাঠাগার ও অতিথিশালা নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।একই সঙ্গে বক্তারা কৃষক-শ্রমিকের নেতা মওলানা ভাসানীর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে তাঁর নামে সিরাজগঞ্জে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী (১৮৮০-১৯৭৬) ছিলেন ব্রিটিশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন সংগ্রাম করায় তিনি ‘মজলুম জননেতা’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।বক্তারা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরে বলেন, আসামে ‘লাইন প্রথা’র বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা, ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উচ্চারিত ‘আসসালামু আলাইকুম’, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য।এছাড়া শিক্ষার প্রসার, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বক্তারা।সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, মওলানা ভাসানীর আদর্শ ও সংগ্রামী জীবন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে তাঁর জন্মভিটাকে জাতীয় পর্যায়ের একটি ঐতিহাসিক ও গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।