চিত্রনায়িকা পরীমণি দাবি করেছেন, ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদক মামলায় তাঁকে ‘বিশেষ মহলের স্বার্থে’ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ওই ঘটনার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হারিয়ে যাওয়া সম্মান ও মানসিক শান্তি রাষ্ট্র ফিরিয়ে দিতে পারবে কি না—সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে পরীমণি এসব কথা বলেন।পোস্টে তিনি জানান, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে তাঁর বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযান পরিচালনার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল বেআইনি এবং বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের প্রভাবে পরিচালিত। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে রিমান্ড শেষে টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়।পরীমণি বলেন, সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি দাবি করেন, তাঁকে অপমানিত করা হয়েছে, তাঁর সম্মান, নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, যার প্রভাব তিনি আজও বহন করছেন।সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলাম ওই ঘটনার বিষয়ে কিছু বক্তব্য দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্য জানিয়ে পরীমণি তাঁকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিন পর হলেও কিছু সত্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা মানুষের সামনে ঘটনার ভিন্ন দিক তুলে ধরেছে।অভিনেত্রী আরও বলেন, তিনি প্রতিশোধ নয়, সত্য, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চান। ভবিষ্যতে যেন কোনো নির্দোষ মানুষ এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।পরীমণির মতে, আদালত যদি শেষ পর্যন্ত তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন, তবুও হারিয়ে যাওয়া সময়, সম্মান ও মানসিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আর কখনো পূরণ হবে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, রাষ্ট্র কি সেই দায় স্বীকার করবে এবং তাঁর জীবনে সৃষ্ট অপূরণীয় ক্ষতির জবাব দিতে পারবে?পোস্টের শেষাংশে তিনি কঠিন সময়ে পাশে থাকা পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সাংবাদিক ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, অতীতের তিক্ততা পেছনে ফেলে একজন শিল্পী হিসেবে কাজ, পরিবার, সন্তান ও দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চান।উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট র্যাব রাজধানীর বনানীতে পরীমণির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং তিনি প্রায় ২০ দিন কারাগারে ছিলেন। মামলাটি নিয়ে আইনি কার্যক্রম এখনও বিচারাধীন।