ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন শেষ অধ্যায়ে। সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের চার শক্তিধর দল—ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মনে—শেষ পর্যন্ত কারা উঠবে ফাইনালে, আর শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদারই বা কে?আগামী বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল। অন্যদিকে আজ রাতে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। দুই সেমিফাইনালই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও বর্তমান পারফরম্যান্স, দলীয় ভারসাম্য ও মানসিক দৃঢ়তা বিবেচনায় চার দলের শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা।ইংল্যান্ড: বেলিংহামের জাদু, তবে ধারাবাহিকতার প্রশ্নইংল্যান্ড এবার দৃষ্টিনন্দন ফুটবল না খেললেও প্রয়োজনের সময় জয় তুলে নিতে সফল হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে দল যখন চাপে, তখন জোড়া গোল করে ত্রাতা হয়ে ওঠেন জুড বেলিংহাম। তার সঙ্গে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে।তবে দলটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ধারাবাহিকতার অভাব এবং কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা। ফাইনালে উঠলেও ফ্রান্স বা স্পেনের মতো পরিপূর্ণ দলের বিপক্ষে এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।আর্জেন্টিনা: চাপ সামলানোর অসাধারণ মানসিক শক্তিডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে ওঠার পথ মোটেও সহজ ছিল না। কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়, মিসরের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে জয়—প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলকে।তবে ইতিবাচক দিক হলো, দলটি এখন আর কেবল লিওনেল মেসির ওপর নির্ভরশীল নয়। কঠিন পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং নকআউট ম্যাচ জয়ের অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনাকে আবারও ফাইনালের শক্তিশালী দাবিদারে পরিণত করেছে।স্পেন: ইস্পাতকঠিন রক্ষণ, দলীয় সংহতিই মূল শক্তিচলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে সংগঠিত দলগুলোর একটি স্পেন। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মিকেল মেরিনো।তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল এখনও গোল বা অ্যাসিস্টে বড় অবদান রাখতে না পারলেও দলীয় কৌশল, নিয়ন্ত্রিত ফুটবল এবং দুর্ভেদ্য রক্ষণ স্পেনকে শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদারে পরিণত করেছে।ফ্রান্স: আক্রমণ-রক্ষণের নিখুঁত ভারসাম্যে সবচেয়ে এগিয়েবর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায় টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ফ্রান্স। দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা ছয় ম্যাচেই জয় পেয়েছে। করেছে ১৬ গোল, হজম করেছে মাত্র দুটি।কিলিয়ান এমবাপ্পে আট গোল এবং উসমান দেম্বেলে পাঁচ গোল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন। অন্যদিকে মাইকেল ওলিসে পাঁচটি অ্যাসিস্ট নিয়ে সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। নকআউট পর্বে তিন ম্যাচের একটিতেও গোল না খাওয়ায় তাদের রক্ষণভাগও রয়েছে দুর্দান্ত ছন্দে।ফাইনালের টিকিট কার?ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা হয়তো এখনও তাদের সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি, তবে বড় ম্যাচে লড়াই করে টিকে থাকার মানসিকতা দুই দলকেই আলাদা শক্তি দিয়েছে।অন্যদিকে স্পেন ও ফ্রান্স টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পরিণত ফুটবল খেলেছে। বিশেষ করে বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় ফ্রান্সকে অনেক বিশ্লেষক শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে দেখছেন।ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালটি হতে যাচ্ছে কৌশল ও নান্দনিক ফুটবলের লড়াই, আর ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচটি হতে পারে মানসিক দৃঢ়তা ও টিকে থাকার এক রুদ্ধশ্বাস যুদ্ধ। তবে আটলান্টা থেকে যে দলই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করুক না কেন, তারা শিরোপার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার সামর্থ্য নিয়েই মাঠে নামবে।