বারবার যুদ্ধবিরতি, ফের সংঘাত: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার ছয় মাস
প্রথম দর্পণ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক||
প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৫৮ সময়
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ছয় মাসেও থামেনি। কয়েক দফা যুদ্ধবিরতি, আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগের পরও পরিস্থিতি বারবার উত্তপ্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে বিধিনিষেধ, নৌ অবরোধ এবং পাল্টাপাল্টি হামলায় সংঘাতের পরিধিও বেড়েছে।সর্বশেষ ১ সেপ্টেম্বর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।সংঘাতের উল্লেখযোগ্য ঘটনাপ্রবাহ—২৮ ফেব্রুয়ারি: ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিভিন্ন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালায়।১ মার্চ: হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরান।৮ মার্চ: আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়।৭ এপ্রিল: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এ সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা জানানো হয়।২১ এপ্রিল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ান। তবে ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকে।১৭ জুন: ৬০ দিনের আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। একই সময়ে ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র।৭ জুলাই: দুই দেশের মধ্যে ফের হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। পরে ইরানের ওপর পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন।২৪ জুলাই: ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।৩০ আগস্ট: হরমুজ প্রণালীর লারাক দ্বীপে দুটি রকেট লঞ্চারে মার্কিন হামলার পর আবারও পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।১ সেপ্টেম্বর: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান।কয়েক দফা যুদ্ধবিরতি, আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ সত্ত্বেও ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বারবার নতুন করে বিস্ফোরিত হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।