ফুটবল খেলার সময়সূচি নিয়ে হবিগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫০
মোঃ রায়হান চৌধুরী, (নিজস্ব প্রতিবেদক)||
প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:২৭ সময়
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে ইনডোর ফুটবল খেলার সময়সূচি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের মিরপুর অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।বুধবার সন্ধ্যার পর মিরপুর বাজারে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ পুরো বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর উপজেলার বানিয়াগাঁও গ্রামের রিয়াদ মিয়া একটি ইনডোর খেলার মাঠ উদ্বোধন করেন। সেখানে খেলার সময়সূচি নির্ধারণকে কেন্দ্র করে পশ্চিম জয়পুর গ্রামের উজ্জ্বলের দলের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উজ্জ্বলের দলকে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত খেলার সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পর তারা মাঠে পৌঁছালে অন্য একটি দল খেলায় নেমে পড়ে। পরে রিয়াদ মিয়া উজ্জ্বলের দলকে রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত খেলার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু উজ্জ্বলের দল খেলায় অংশ না নিয়ে মাঠ থেকে চলে যায়।এর জের ধরে পরবর্তী সময়ে মিরপুর এলাকায় রিয়াদ মিয়ার ভাই মুরাদ মিয়াকে একটি গাড়ি দিয়ে মোটরসাইকেলসহ চাপা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনা জানতে পেরে রিয়াদ মিয়া ও তার সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উজ্জ্বলকে মারধর করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।এরপর বুধবার সন্ধ্যার পর বানিয়াগাঁও ও পশ্চিম জয়পুর গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিরপুর বাজারে মুখোমুখি হন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে তা পুরো বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। এতে বাজারের একাধিক দোকানে ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের মিরপুর অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় মুরুব্বি ও নেতাদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।তবে সংঘর্ষে আহতের সঠিক সংখ্যা ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।