বাসের ধাক্কায় মৃত্যু: এক মাসের ব্যবধানে মা-বাবাকে হারাল দুই সন্তান
প্রথম দর্পণ অনলাইন, ডেক্স||
প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৫৭ সময়
মায়ের মৃত্যুর এক মাস না পেরোতেই বাবাকেও হারাল শরীয়তপুরের দুই সন্তান। চলন্ত গাড়ি থামাতে গিয়ে যাত্রীবাহী মিনিবাসের ধাক্কায় মারা গেছেন রতন পোদ্দার (৫৫)। বুধবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুর জেলা শহরের ধানুকা বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আ. রউফ স্টেডিয়ামের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত রতন পোদ্দার শরীয়তপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত গৌরঙ্গ পোদ্দারের ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেল থেকে রতন পোদ্দার স্টেডিয়ামের সামনের সড়কে চলাচলকারী গাড়িগুলোকে হাতের ইশারায় সরিয়ে দিচ্ছিলেন। তাঁর এমন কর্মকাণ্ড দেখতে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। কেউ কেউ ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন।সন্ধ্যার পর শরীয়তপুর আন্তজেলা বাস মালিক সমিতির একটি মিনিবাস ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় রতন হাতের ইশারায় বাসটি থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় মিনিবাসটি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ধাওয়া করে মিনিবাসটি ও চালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।এক মাস আগে মারা যান স্ত্রীপরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রতন পোদ্দারের স্ত্রী। স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর মানসিক ভারসাম্যেও সমস্যা দেখা দেয়।রতন ও তাঁর স্ত্রীর তিন সন্তান। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট দুই সন্তান বাবার ওপর নির্ভরশীল ছিল। এক মাসের ব্যবধানে মা ও বাবাকে হারিয়ে তারা এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।নিহতের প্রতিবেশী শহিদুল ইসলাম ঢালী বলেন, প্রায় এক মাস আগে রতনের স্ত্রী মারা যান। এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর ছোট দুই সন্তানকে দেখাশোনার মতো কেউ রইল না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং শিশু দুটির ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, মিনিবাস ও চালককে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মারা যাওয়ায় এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।