বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে সাফল্য অর্জনকারী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা উজ্জ্বল করা এসব হাফেজকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হলে দেশও সম্মানিত হবে।বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের সংবর্ধনা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি জানান। ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়। অথচ কোরআনের হাফেজরা বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনলেও এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের সম্মানিত করার তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি।তিনি বলেন, বুধবার সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিশ্বজয়ী হাফেজদের সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি নিজেও সেই দাবি পুনর্ব্যক্ত করে আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শুধু সংবর্ধনা নয়, বিশ্বজয়ী হাফেজদের আরও যেসব উপায়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা সম্ভব, সেসব উদ্যোগও নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে সাফল্য অর্জনকারী হাফেজদের নিয়ে ভবিষ্যতে একটি বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।মক্কায় বাংলাদেশের পতাকার গৌরবসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান জানান, এ বছর মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া চার প্রতিযোগীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের একজন প্রথম এবং অন্য তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।তিনি বলেন, মক্কার বায়তুল হারামে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা দেখা গেলেও মক্কার মতো মর্যাদাপূর্ণ স্থানে এভাবে পতাকার উপস্থিতি বিশেষ গৌরবের বিষয়।ধর্মীয় শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বানবিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নৈতিক শিক্ষার বিকাশে ধর্মীয় শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভালো ও নৈতিক নাগরিক গঠনে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার প্রয়োজন। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজুল কোরআনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের যথাযথ সহযোগিতা থাকা উচিত। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার।মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসার পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়াশোনা করছে। এ ধরনের সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন। নৈতিক শিক্ষার প্রসার যত বাড়বে, রাষ্ট্রে তত বেশি ভালো নাগরিক তৈরি হবে।তিনি বলেন, ইসলামী শিক্ষা অনেকটা উপেক্ষিত। এ বিষয়ে সংসদে তারা কথা বলেছেন এবং ভবিষ্যতেও কথা বলবেন। একদিন এ দাবি বাস্তবায়িত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের সহযোগিতাকারী বিদেশি শিক্ষকদের সুযোগ পেলে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করার কথাও বলেন জামায়াত আমির।গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বজয়ী হাফেজদের অর্জন যেন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং এটি জাতীয় গৌরব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে।ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ প্রসঙ্গেশনিবারের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের কর্মসূচি কোনো দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। ২০২৪ সালের আগস্টের পর তারা যে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রত্যাশা করেছিলেন, তা এখনো দেখতে না পাওয়ায় জনগণের পক্ষ থেকে নৈতিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।অনুষ্ঠানে বিশ্বজয়ী হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া বলেন, মক্কায় সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে তারা সম্মান পেয়েছেন। তবে বাংলাদেশে এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো সংবর্ধনা পাননি। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবর্ধনার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।জাকারিয়ার শিক্ষক মুফতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, তারা রাষ্ট্রীয় কোনো সহযোগিতা চাননি এবং পানওনি। তবে ভবিষ্যতে যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোরআন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করবে, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মেইন ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।