ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী সাহাবি ও সফল শাসক। তাঁর ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানদের শক্তি ও সাহস বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তাঁর সময়েই মুসলমানরা প্রকাশ্যে কাবা শরিফের সামনে নামাজ আদায়ের সুযোগ লাভ করেন। ন্যায়বিচার, প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর আদর্শ আজও শাসকদের জন্য অনুসরণীয়।পরিচয় ও জীবনপূর্ণ নাম: উমর ইবনুল খাত্তাব ইবন নুফাইল আল-কুরাইশী আল-আদাবিকুনিয়াত: আবু হাফসউপাধি: আল-ফারুকগোত্র: বনু আদী (কুরাইশ)জন্ম: আনুমানিক ৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দ, মক্কাশাহাদত: ২৩ হিজরি (৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ), মদিনাফজরের নামাজের সময় এক পারস্য বংশোদ্ভূত ক্রীতদাসের ছুরিকাঘাতে তিনি শাহাদত লাভ করেন।বিশেষ মর্যাদাহজরত উমর (রা.)-এর মর্যাদা ইসলামে অত্যন্ত উচ্চ। তিনি নবীদের পর এই উম্মতের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত। ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধি করেন এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরামর্শদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ সাহাবির একজন। তাঁর মত ও পরামর্শের সমর্থনে কোরআনের কয়েকটি আয়াত নাজিল হয়েছে বলেও বর্ণিত রয়েছে।মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় খলিফা নির্বাচিত হন। তাঁর শাসনামলে শাম, ইরাক, মিসর ও পারস্যের বিশাল অঞ্চল মুসলিম রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়।রাষ্ট্র পরিচালনায়ও তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সময়ে হিজরি সন প্রবর্তন, বিচার বিভাগ ও বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।হজরত উমর (রা.) সম্পর্কে হাদিসহজরত উমর (রা.)-এর মর্যাদা ও বিশেষ গুণ সম্পর্কে মহানবী (সা.) বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ করেছেন।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা উমরের জবানে ও হৃদয়ে সত্য প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন।’ (তিরমিজি : ৩৬৮২)আরেক হাদিসে এসেছে, ‘যে পথে উমর চলেন, শয়তান সে পথ ছেড়ে অন্য পথে চলে যায়।’ (বুখারি : ৩৬৮৩)এ ছাড়া মহানবী (সা.) বলেছেন, পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ ছিলেন, যাদের ইলহাম বা সঠিক জ্ঞান দেওয়া হতো। তাঁর উম্মতের মধ্যে এমন কেউ থাকলে তিনি হবেন উমর—এমন বক্তব্যও হাদিসে এসেছে। (বুখারি ও মুসলিম)ইসলামের ইতিহাসে হজরত উমর (রা.) তাই শুধু একজন খলিফা নন; ন্যায়বিচার, রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও দৃঢ় নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।