বর্তমান সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকেরা এখন থেকে ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবেন।শুক্রবার নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর উদ্যোগ ও সভাপতিত্বে আয়োজিত ‘রফিক হিলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম-২০২৬’-এর অরিয়েন্টেশন এবং সদ্য সমাপ্ত এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মানবিক সরকার। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্দেশ্য সরকারের নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের যেকোনো উদ্যোগ থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অব্যাহত থাকবে এবং এটিকে আরও স্বাধীন করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন ও অপসাংবাদিকতা রোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার মানদণ্ড বজায় রাখতে প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে জনগণ সঠিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ পায়।তিনি বলেন, বাক্স্বাধীনতার নামে কাউকে হেয় করা বা কারও জন্য সামাজিক হুমকি তৈরি হয়—এ ধরনের লেখালেখি থেকে সাংবাদিকদের বিরত থাকা উচিত। স্বাধীন সাংবাদিকতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাও জরুরি।বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচার বিভাগকে স্বাধীন দেখতে চায় এবং এতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে চায় না। অতীতে ফ্যাসিস্ট আমলে বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার বিচার বিভাগে কোনো নির্দেশ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায় না। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে।তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগে কোনো অনিয়ম দেখা গেলে সাংবাদিকদের তা নিয়ে সোচ্চার হতে হবে। সরকারও এমন ভূমিকা প্রত্যাশা করে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। এ ছাড়া নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।