পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে এসেছে প্রায় ছয় ফুট লম্বা একটি মৃত পুরুষ বটলনোজ ডলফিন। ডলফিনটির লেজে দড়ি বাঁধা ছিল। শরীরের বিভিন্ন অংশে দেখা গেছে গভীর ক্ষতচিহ্ন।শনিবার সকাল ১০টার দিকে সৈকতের চর গঙ্গামতি এলাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক আব্দুল জলিল ডলফিনটি দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে ডলফিন রক্ষা কমিটি, বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি উদ্ধার করেন।উদ্ধারের সময় দেখা যায়, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় ডলফিনটির শরীরের অধিকাংশ চামড়া উঠে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। লেজে শক্ত দড়ি বাঁধা থাকলেও কীভাবে বা কী উদ্দেশ্যে সেটি বাঁধা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ঘটনাটি সামুদ্রিক প্রাণীর নিরাপত্তা এবং মাছ ধরার সময় ট্রলারের অসচেতন পদ্ধতি নিয়ে স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে কুয়াকাটা উপকূলে অন্তত ৫৮টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ১৫টি, ২০২৪ সালে ১০টি, ২০২৫ সালে ১৭টি এবং চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬টি ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে।স্থানীয় পরিবেশকর্মী আবুল হোসেন রাজু বলেন, জীবিত বা মৃত ডলফিন ও কচ্ছপ উদ্ধারের সময় প্রায়ই তাদের মুখ বা লেজে জালের টুকরা কিংবা দড়ি পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রয়োজনে এসব মৃত প্রাণী থেকে গবেষণার নমুনা সংগ্রহের পর নির্ধারিত স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়।ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, উপকূলে একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর এ ধরনের মৃত্যু বড় ধরনের পরিবেশগত সতর্কবার্তা। ডলফিন ও কচ্ছপের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সমন্বিত গবেষণা, নিয়মিত নজরদারি এবং কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা জরুরি।শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, মাছ ধরার জালে আটকে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ডলফিন ও কচ্ছপ মারা যেতে পারে। এ ছাড়া নৌযানের ধাক্কা, তেল ও শিল্পবর্জ্যের দূষণ এবং রাসায়নিক পদার্থও সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, উপকূলে এ ধরনের ঘটনা মাঝেমধ্যে ঘটে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন।