কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী ও তাঁর মা তাহমিনা বেগম হত্যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের এক বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় দ্রুত বিচার ও দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সুমাইয়ার সহপাঠীরা।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জোহরের নামাজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে সুমাইয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করেন তাঁর সহপাঠীরা। এতে লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তাঁরা সুমাইয়া ও তাঁর মায়ের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন।গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সুমাইয়া ও তাঁর মা তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ অভিযুক্ত মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।পুলিশ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, ঝাড়ফুঁকের সূত্রে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারকের পরিচয় হয়। হত্যাকাণ্ডের আগে প্রায় এক মাস তিনি ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। জবানবন্দিতে মোবারক জানান, সুমাইয়াকে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার সময় তিনি ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি তাঁর মা তাহমিনা বেগম দেখে ফেলায় প্রথমে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে সুমাইয়াকেও হত্যা করা হয়।হত্যাকাণ্ডের এক বছর পার হলেও মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন জানান, এ পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে। মামলায় তিনটি শুনানি হয়েছে। আগামী ১৭ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ হবে।এদিকে বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতিতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সুমাইয়ার সহপাঠীরা। তাঁরা দ্রুত বিচার শেষ করে হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।সুমাইয়ার সহপাঠী মেহেদি হাসান শাহিন বলেন, সুমাইয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার এক বছর পার হলেও মামলায় এখনো দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি। তিনি আশা করেন, এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি কোনোভাবেই যেন ছাড় না পান।সহপাঠী মুনিয়া আফরোজ বলেন, হত্যাকাণ্ডের এক বছর পার হলেও আদালতে তারিখের পর তারিখ পিছিয়েছে, এখনো কোনো রায় হয়নি। এরপরও বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা রেখে দ্রুত বিচার শেষ করার দাবি জানান তিনি।আরেক সহপাঠী হুমাইরা তাসনিম প্রমি বলেন, তাঁরা প্রতিশোধ চান না। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করাই তাঁদের দাবি।সুমাইয়ার বড় ভাই মো. আল আমিন জানান, এ পর্যন্ত চারজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং আগামী ১৭ অক্টোবর পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন বলেন, পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে এবং আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি। আগামী ১৭ অক্টোবর মামলার শুনানি রয়েছে। তিনি আশা করছেন, বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ হবে।