রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব যানবাহনকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।সোমবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।তিনি বলেন, রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানে নিয়ম অমান্যকারী অটোরিকশা আটক, ডাম্পিং এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলকে সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর আওতায় আনতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে অনুমোদিত অটোরিকশাগুলোকে নাম্বার প্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করা যাবে।তিনি আরও বলেন, চালকদের নিবন্ধনের আওতায় এনে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি লাইসেন্স প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অটোরিকশার নিবন্ধন, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ, চালক নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও নীতিমালার আওতায় আনা হবে।অবৈধ চার্জিং বন্ধেও অভিযানব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সরকারি হিসাবে, দেশে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যানবাহনের দৈনিক চার্জিংয়ে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তারও বেশি বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। বিপুলসংখ্যক বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের বিপরীতে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি।অন্যদিকে, শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৪৮ হাজারের বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। এর ফলে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধে ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে গ্যারেজের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আরও এআই ক্যামেরারাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা সচল রয়েছে। এসব ক্যামেরা অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে।এর ধারাবাহিকতায় ট্রাফিক রমনা ও তেজগাঁও বিভাগে আরও ২০০টি এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। পরবর্তী সময়ে ঢাকা মহানগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়েও পর্যায়ক্রমে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।