বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারে ট্রেনটি পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রেলমন্ত্রী।শেখ রবিউল আলম বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের রেল যোগাযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়টি। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াতের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, চিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রেও আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগের ভূমিকা রয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।রেলমন্ত্রী বলেন, ট্রেনটি চালু হলে দুই দেশের নাগরিকদের সরাসরি যাতায়াত আরও সহজ হবে। বিশেষ করে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা উপকৃত হবেন। সড়ক ও আকাশপথের পাশাপাশি রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ বাড়লে মানুষের সময় ও ব্যয় কমবে।ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রেল যোগাযোগের পরিধি সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং আন্তঃদেশীয় রেলব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।মৈত্রী এক্সপ্রেসের সম্ভাব্য সময়সূচি ও চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও প্রস্তুতি বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ শুধু যাত্রী পরিবহনের মাধ্যম নয়; এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ সেতু। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করেই মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে সরকার আগ্রহী।বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানান। দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ ও উভয় দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।এ সময় হাইকমিশনার দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক যোগাযোগ ও জনগণের পারস্পরিক বন্ধনের বিষয়টিও তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও জোরদারের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।বৈঠকে রেলপথ সচিব ফাহিমুল ইসলাম, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন ভাদে উপস্থিত ছিলেন।