রাজশাহীর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) এক ছাত্রী ও একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের দুজনের মোবাইল ফোনের লোকেশন একই এলাকায় পাওয়া গেছে। বর্তমানে তারা বরিশাল সদর এলাকায় অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষক ‘উধাও’ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।নিখোঁজ ছাত্রী মেহেরুন নাহার মৌ আইএইচটির ফার্মেসি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি প্রতিষ্ঠানের শাখা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী। জুনিয়র শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।অন্যদিকে, নিখোঁজ শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষ একই বিভাগের শিক্ষক। সূত্রের দাবি, মেহেরুনের মাধ্যমে তিনি ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আর্থিক সহযোগিতা করতেন।বাড়ি যাওয়ার কথা বলে হোস্টেল ছাড়েন মৌআইএইচটি সূত্র জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর হোস্টেল ছাড়ার অনুমতি চেয়ে হোস্টেল সুপারের কাছে আবেদন করেন মেহেরুন। কলেজ বন্ধ থাকায় বাড়ি যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি ছুটির আবেদন করেন। একই সময়ে শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষও দুই দিনের ছুটি নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।তবে মেহেরুনের বাবা মোসলেম উদ্দিনের দাবি, বাড়ি যাওয়ার কথা বলে ছুটি নিলেও তার মেয়ে বাড়িতে যাননি।তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার মেয়ে বাড়িতে আসেনি। সে বাড়িতে এলে আমাকে জানিয়ে আসত।’একই এলাকায় দুই মোবাইলের লোকেশনআইএইচটির একটি সূত্রের দাবি, ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষ ও শিক্ষার্থী মেহেরুন নাহার মৌয়ের মোবাইল ফোনের লোকেশন বরিশাল সদর এলাকায় পাশাপাশি পাওয়া যায়।মৌয়ের এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠী জানান, অসীম কুমারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তারা প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বলতেন। আইএইচটির শাখা ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আগে কেনাকাটার জন্য অসীম কুমার মৌকে অর্থও দিয়েছিলেন বলে ওই সহপাঠীর দাবি।এদিকে, শিক্ষক ও ছাত্রীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে আইএইচটির মহিলা হোস্টেল সুপার আফিফা আফরোজ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।যা বলছে আইএইচটি কর্তৃপক্ষরাজশাহী আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. মির্জা মহম্মদ ওয়াসি পারভেজ বলেন, হোস্টেল বন্ধ থাকায় ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানে কোনো অভিযোগ করা হয়নি।তিনি আরও বলেন, ‘ওই শিক্ষক দুই দিনের ছুটি নিয়েছেন। গতকাল পর্যন্ত তার ছুটি ছিল। আর আজ বন্ধের দিন। ছুটিতে কে কোথায় গেছে, এ নিয়ে আমরা কিছু করতে পারি না।’