সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি সাধারণ তথ্যও কখনো কখনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। অনলাইনে দেওয়া বিভিন্ন তথ্য আলাদাভাবে নিরীহ মনে হলেও, সেগুলো একত্র করে একজন ব্যক্তির পরিচয়, অবস্থান, দৈনন্দিন অভ্যাস এমনকি আর্থিক বিষয়েও ধারণা পাওয়া সম্ভব। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় কী তথ্য প্রকাশ করছেন, কারা তা দেখতে পাচ্ছেন এবং অন্য কেউ সেটি কীভাবে ব্যবহার করতে পারে—এসব বিষয় বিবেচনায় রাখা জরুরি।জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ছবিজাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন বা অন্য কোনো সরকারি পরিচয়পত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত নয়। এসব নথিতে নাম, জন্মতারিখ, পরিচয় নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য থাকে।নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার আনন্দে কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে পরিচয়পত্রের ছবি পোস্ট করলে এসব তথ্য অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির হাতে চলে যেতে পারে। তাই সরকারি পরিচয়পত্রের ছবি প্রকাশ না করাই নিরাপদ। প্রয়োজনে কাউকে পাঠাতে হলেও সংবেদনশীল তথ্য আড়াল করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।ব্যাংক হিসাব ও কার্ডের তথ্যব্যাংক হিসাব নম্বর, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের ছবি, কার্ড নম্বর, মেয়াদ কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত নয়।অনেকে নতুন কার্ড পাওয়ার পর সেটির ছবি তুলে পোস্ট করেন। আবার লেনদেনের প্রমাণ দিতে গিয়ে এমন ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে ব্যাংক হিসাব বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখা যায়। এ ধরনের ছবি প্রকাশের আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। আর্থিক তথ্য যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত রাখাই নিরাপদ।পাসওয়ার্ড ও এককালীন গোপন সংকেতকোনো অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড, পিন কিংবা এককালীন গোপন সংকেত কারও সঙ্গে ভাগ করা উচিত নয়—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো নয়ই।প্রতারকরা অনেক সময় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে এসব তথ্য চাইতে পারে। কোনো বার্তা বা মন্তব্যের মাধ্যমে এমন তথ্য চাওয়া হলেও তা দেওয়া উচিত নয়। এককালীন গোপন সংকেত অল্প সময়ের জন্য কার্যকর হলেও সেটি অন্যের হাতে গেলে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ও ইমেইল ঠিকানাপ্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত ফোন নম্বর বা ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ্যে দেওয়া উচিত নয়। এসব তথ্য ব্যবহার করে অবাঞ্ছিত ফোন, বার্তা কিংবা প্রতারণামূলক যোগাযোগের চেষ্টা হতে পারে।ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করতে হলে ব্যক্তিগত নম্বর বা ইমেইলের পরিবর্তে আলাদা যোগাযোগব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। বিশেষ করে উন্মুক্ত মন্তব্যের ঘরে ফোন নম্বর লেখার আগে মনে রাখা দরকার, সেটি শুধু যাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হচ্ছে তিনিই নন, আরও অনেকেই দেখতে পারেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে তাই সতর্ক থাকা জরুরি। অনলাইনে একবার কোনো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ হয়ে গেলে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। নিরাপদ থাকতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করাই সবচেয়ে ভালো।সতর্কবার্তাঅনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের আগে একবার ভাবুন—প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো তথ্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করবেন না। পরিচয়, আর্থিক তথ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখুন।