ভারতসহ আট দেশে আল-কায়েদার হামলার পরিকল্পনার তথ্য, ৬০ দেশে ছড়িয়ে ছিল লাদেনের নেটওয়ার্ক২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার কয়েক বছর আগেই ভারতসহ একাধিক দেশে হামলার পরিকল্পনা করেছিল আল-কায়েদা। সংগঠনটির তৎকালীন প্রধান ওসামা বিন লাদেনের সম্ভাব্য হামলার তালিকায় ভারতের নামও ছিল বলে সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা নথিতে উঠে এসেছে।৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে লাদেন-সংক্রান্ত ৭০টিরও বেশি গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের ২৮ আগস্টের একটি নথিতে ভারতসহ আটটি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।নথিতে বলা হয়েছে, ভারত ছাড়াও পাকিস্তান, মিসর, কুয়েত, সৌদি আরব, ইয়েমেন, উগান্ডা এবং ‘সম্ভবত’ নাইজেরিয়ায় হামলার পরিকল্পনা করেছিল আল-কায়েদা। তবে নথিগুলোর সংবেদনশীল কিছু অংশ এখনো গোপন রাখা হয়েছে।সিআইএর প্রকাশিত নথিটির শিরোনাম ‘বিন লাদেনের সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক এখনও উদ্বেগের’। তবে গোয়েন্দা সংস্থাটি কোন সূত্রের ভিত্তিতে এসব তথ্য পেয়েছিল, তা প্রকাশ করেনি।ভারতকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে নথিতে বিস্তারিত তথ্যও নেই। ভারতের কোন শহর বা স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল, কখন কিংবা কীভাবে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল—এসব বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।নথিতে বলা হয়েছে, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ায় লাদেনের নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যেকোনো কাঠামো হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রেও আরও হামলার পরিকল্পনা করছিলেন লাদেন। তাঁর নেটওয়ার্ক অন্তত ৬০টি দেশে বিস্তৃত ছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্টদের একাধিকবার সতর্ক করেছিল সিআইএ। এসব সতর্কবার্তা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও জর্জ বুশের কাছেও পৌঁছেছিল।৯/১১-এর ভয়াবহ হামলা২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালায়। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। এতে দুটি ভবনই ধসে পড়ে।আরেকটি বিমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে আঘাত করে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভেনিয়ায় বিধ্বস্ত হয়। ওই হামলায় সরকারি হিসাবে প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।