ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা তার এই ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংঘাত ক্রমেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় ট্রাম্প সত্যিই যুদ্ধের অবসান চাইলে ইরানের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যেও এই যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। দেশটির কয়েকজন শীর্ষ জেনারেলও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত না করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছেন। তাই অনর্থক ও ব্যর্থ সামরিক অভিযান বন্ধ করে পাকিস্তানসহ আস্থাভাজন তৃতীয় পক্ষ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমে আবারও সংলাপের পথ উন্মুক্ত করার সময় এসেছে।নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন নয়সম্প্রতি আয়ারল্যান্ড সফরের সময়ও ট্রাম্প বলেছেন, তার হিসাব অনুযায়ী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সংঘাত কমে আসবে। কিন্তু এখন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতিতে অনেক পরিবর্তন ঘটতে পারে। যুদ্ধ এমন কোনো সরল বিষয় নয়, যা ইচ্ছামতো একটি বোতাম চাপলেই বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব।গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিও ভেঙে পড়েছে। ইরানপন্থী এই গোষ্ঠী ইয়েমেনে আরও কিছু এলাকা দখল করেছে। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে সৌদি জাহাজ চলাচল ঠেকাতে নিজেদের অবস্থান আরও জোরদার করছে।অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনেও হামলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরাকের দিক থেকে এই হামলা চালানো হয়েছে। রিয়াদ জানিয়েছে, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম ইরাকি সরকারের’ অনুরোধে তারা তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে জবাব দেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করেছে। ইরাকে শক্তিশালী ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।লেবাননেও বাড়ছে সংঘাতলেবাননে ইসরাইল হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার লক্ষ্যে ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে। এসব হামলায় হাজারো লেবানিজ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।লেবাননে যুদ্ধবিরতি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। কিন্তু সেখানে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়া এবং একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া দেখিয়ে দিচ্ছে—যুদ্ধবিরতির জন্য নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করার সুযোগ নেই।আলোচনাই এখন পথচলমান যুদ্ধে আগ্রাসী পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রেরই প্রথম পদক্ষেপ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করা উচিত। তেহরানেরও একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো প্রয়োজন।হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা সোমবার ওমানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করা যায়, আঞ্চলিক দেশগুলো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে।আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া।ইরান যুদ্ধের গতিপথ অত্যন্ত অনিশ্চিত। নভেম্বর পর্যন্ত সংঘাতের মাত্রা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে—ওয়াশিংটনের এমন আত্মবিশ্বাস বাস্তবসম্মত নয়। তাই পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগোনো জরুরি।