চট্টগ্রামের রাউজানে মোটরসাইকেল চুরির সন্দেহে মোহাম্মদ করিম (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ও সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮), মো. সেলিম (৫০) ও মো. আলামিন (২৯)। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় এলজি, একটি এয়ারগান, দুটি ১২ বোরের সীসার কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি গ্রিল কাটার উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, শুক্কুর ও জাবেদকে চট্টগ্রাম নগরের চাঁদগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে এবং সেলিম ও আলামিনকে হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শুক্কুর ও জাবেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সিমেন্টের তৈরি একটি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।যেভাবে হত্যাগত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় প্রকাশ্যে করিমকে হত্যা করা হয়। পুলিশ বলছে, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে একদল ব্যক্তি সেখানে এসে করিমকে ঘিরে ধরে প্রথমে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই চুরির ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করেন পারভেজ। মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য তিনি করিমকে চাপ দেন। তবে করিম চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হন পারভেজ।পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পারভেজ তাঁর সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনেন। সেখানে পারভেজসহ অন্যরা অবস্থান করছিলেন। করিম সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে গুলি করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।অস্ত্র উদ্ধার, পলাতক পারভেজচট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, তদন্তের একপর্যায়ে শুক্কুর ও জাবেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামারে রাখা হয়েছে বলে জানা যায়। পরে সোমবার তাঁদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।তিনি জানান, পারভেজসহ মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সেলিমের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা রয়েছে।নিহত মোহাম্মদ করিম রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশের তথ্যমতে, তাঁর বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ ১০টি মামলা রয়েছে।মামলার অন্যতম আসামি পারভেজ (৪৫) এখনো পলাতক। থানা রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস যাচাই করে পুলিশ জানিয়েছে, রাউজানসহ বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে।তথ্যসূত্র: চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলের বক্তব্য।