এলএনজি টার্মিনালের দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা সমাধান, তৃতীয় টার্মিনাল যুক্ত হবে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেশিল্পকারখানায় গ্যাসের সরবরাহ আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রায় তিন ঘণ্টার ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের মেয়াদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ দিতে হবে।সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং এখন তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।দুর্ঘটনায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নবর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।’তৃতীয় এলএনজি টার্মিনালের উদ্যোগগ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে গত এক মাসে নতুন টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে।২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালকে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সমাধানের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছে। বর্তমানে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এসব সমস্যার পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়।তথ্যসূত্র: প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলুর বক্তব্য ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার তথ্য।