জন্মগত ত্বকের রং স্থায়ীভাবে পরিবর্তনের নিরাপদ বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা নেই। তবে রোদে পোড়া, ব্রণের দাগ, মেছতা ও পিগমেন্টেশন কমিয়ে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।ত্বকের রং মানুষের সৌন্দর্যের মাপকাঠি নয়। বরং ত্বকের স্বাভাবিক রং নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মেলানিন শরীরকে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়। তাই ফর্সা হওয়ার আশায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভিন্ন ক্রিম, ইনজেকশন কিংবা ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে ত্বকের ক্ষতি ডেকে আনা থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ত্বকের রং মূলত মেলানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থের ওপর নির্ভর করে। শরীরে মেলানিনের পরিমাণ বেশি হলে ত্বক তুলনামূলক গাঢ় এবং কম হলে সাদাটে হয়। এটি মূলত বংশগত বৈশিষ্ট্য ও শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অংশ।এ পর্যন্ত এমন কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ও নিরাপদ চিকিৎসা নেই, যা মানুষের জন্মগত ত্বকের রং স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে পারে। তবে রোদে পোড়া ত্বক, ব্রণের দাগ, মেছতা, পিগমেন্টেশন ও ত্বকের নিস্তেজভাবের চিকিৎসার মাধ্যমে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।ফেয়ারনেস ক্রিমে ঝুঁকিঅনেক ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহারের পর শুরুতে ত্বক উজ্জ্বল দেখাতে পারে। কিন্তু কিছু পণ্যে শক্তিশালী স্টেরয়েড, পারদ কিংবা উচ্চমাত্রার হাইড্রোকুইনোনের মতো ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে।দীর্ঘদিন এসব উপাদান ব্যবহারে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী লালচেভাব, ব্রণ বেড়ে যাওয়া, রক্তনালি স্পষ্ট হয়ে ওঠা, সহজে সংক্রমিত হওয়া, মুখে কালো দাগসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি কিডনিরও ক্ষতি হতে পারে।অর্থাৎ সাময়িকভাবে ত্বক উজ্জ্বল দেখানোর জন্য অনিয়ন্ত্রিত প্রসাধনী ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।গ্লুটাথায়ন ইনজেকশনে সতর্কতাত্বক ফর্সা করার জন্য গ্লুটাথায়ন ইনজেকশন ব্যবহারের প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক। তবে শুধু ত্বক ফর্সা করার ক্ষেত্রে এর নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতার পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।ভিটামিন সি কি ত্বক সাদা করে?ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে, কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখতে এবং ত্বকের কালো দাগ হালকা করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে ত্বক তুলনামূলক উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখাতে পারে। তবে এটিকে জন্মগত ত্বকের রং স্থায়ীভাবে পরিবর্তনের উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়।ঘরোয়া উপায়েও হতে পারে ক্ষতিপ্রাকৃতিক উপাদান মানেই যে ত্বকের জন্য নিরাপদ—এ ধারণাও ঠিক নয়। লেবুর অ্যাসিড, বেকিং সোডা বা টুথপেস্ট ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা নষ্ট করতে পারে। এতে তীব্র জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জি, রাসায়নিক পোড়া এবং দীর্ঘস্থায়ী কালো দাগ তৈরি হতে পারে।ত্বক ভালো রাখতে যা করবেনপ্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।অতিরিক্ত সূর্যের তাপ থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখুন।মৃদু ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার রাখুন।ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।পর্যাপ্ত পানি পান করুন।পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন।ধূমপান এড়িয়ে চলুন।ত্বকের কোনো সমস্যা হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।সৌন্দর্যের মাপকাঠি গায়ের রং নয়বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হলো, ত্বকের স্বাভাবিক রং পরিবর্তনের চেষ্টা না করে ত্বককে সুস্থ রাখার দিকে গুরুত্ব দেওয়া। আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব, সুস্থতা ও প্রাণবন্ততাই মানুষের সৌন্দর্যকে অর্থবহ করে তোলে। তাই সাময়িকভাবে ফর্সা দেখানোর আশায় অনিরাপদ প্রসাধনী, ইনজেকশন বা ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে ত্বককে ঝুঁকির মধ্যে না ফেলাই ভালো।তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬; ডা. ফাতেমা-তুজ-জোহরা, সহকারী অধ্যাপক (চর্ম ও যৌন), আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬।