সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের চারিগ্রাম মৌজায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাজিদ রাজার বাড়ি। প্রায় ২৭০ বছরের পুরোনো এই জমিদারবাড়ি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।স্থানীয় ইতিহাস ও জনশ্রুতি অনুযায়ী, অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিকে ধর্মপ্রাণ জমিদার সাজিদ রাজা প্রায় ১৫ একর জমির ওপর এ বিশাল প্রাসাদসম স্থাপনা নির্মাণ করেন। সময়ের ব্যবধানে বাড়িটির অনেক স্থাপনা হারিয়ে গেলেও অবশিষ্ট অংশে এখনো অতীতের ঐশ্বর্যের নানা নিদর্শন রয়েছে।বাড়িটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্থাপনা ১৩ চালার বিশাল টিনের ঘর। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন কলকাতা থেকে আনা দক্ষ কারিগররা ১৩ হাজার টাকা মজুরিতে এটি নির্মাণ করেন। একসময় স্থাপনাটি বিচারালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এর নির্মাণশৈলী এখনো দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।বাড়ির পাশে রয়েছে প্রায় সাত একর আয়তনের বিশাল পুকুর। পুকুরের পাড়ে রয়েছে ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত পিলার ও গম্বুজশোভিত একটি মসজিদ। এ ছাড়া রয়েছে প্রায় ২৭০ বছরের পুরোনো রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ। এসব স্থাপনা জকিগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।লোককথায় সাজিদ রাজাস্থানীয়দের মুখে মুখে প্রচলিত রয়েছে, সাজিদ রাজা জৈন্তিয়া রাজপরিবার থেকে এসে এখানে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর বাবা ছিলেন ইছন রাজা। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, হাসন রাজাসহ জৈন্তিয়া ও মোগল আমলের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই বাড়িতে আসতেন। তবে এসব তথ্যের উল্লেখ স্থানীয় ইতিহাস ও লোকমুখে প্রচলিত বর্ণনার ভিত্তিতে করা হচ্ছে।অবহেলায় ক্ষয়প্রাপ্ত স্থাপনাদীর্ঘদিনের অযত্ন, সংস্কারের অভাব ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় বাড়িটির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া না হলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো একসময় বিলীন হয়ে যেতে পারে।যেভাবে যাওয়া যায়সিলেট নগরী থেকে জকিগঞ্জগামী বাসে আটগ্রাম স্ট্যান্ডে নেমে রিকশায় অথবা প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট হেঁটে সাজিদ রাজার বাড়িতে পৌঁছানো যায়। জকিগঞ্জ সদর থেকেও বাস বা সিএনজি অটোরিকশায় একই পথে যাতায়াত করা সম্ভব।স্থানীয়দের মতে, যথাযথ সংরক্ষণ, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হলে সাজিদ রাজার বাড়িকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে জকিগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটনও বিকশিত হতে পারে।তথ্যসূত্র: স্থানীয় ইতিহাস, প্রচলিত জনশ্রুতি ও এলাকাবাসীর বক্তব্য; মূল প্রতিবেদন—এখলাছুর রহমান, জকিগঞ্জ (সিলেট), আমার দেশ, প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।