নায়করাজখ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ্জাকের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরেছেন নন্দিত সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। রাজ্জাকের স্নেহ, আন্তরিকতা ও সহজ-সরল আচরণের কথা স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে কনকচাঁপা জানান, ১৯৮৬ সালে একটি অনুষ্ঠানে প্রথমবার রাজ্জাকের সঙ্গে তার দেখা হয়। নিজের নাম জানার পর রাজ্জাক তাকে বলেছিলেন, ‘এইটুকুন মেয়ে কীভাবে এত ভালো গাইলে? তুমি ছবিতে গেয়েছো?’ মহানায়ককে সামনাসামনি দেখে হতবিহ্বল হয়ে যাওয়ায় তখন কোনো উত্তর দিতে পারেননি বলে জানান কনকচাঁপা।পরে একটি প্লেব্যাক রেকর্ডিংয়ে আবার তাদের দেখা হয়। সে সময় রাজ্জাক তাকে বলেছিলেন, ‘আমি জানতাম, এ জায়গাটা তোমার। তুমি তোমার করে নাও, আশীর্বাদ।’ এরপর রাজ্জাক যেসব সিনেমা প্রযোজনা করেছেন, সেসব সিনেমাতেই কনকচাঁপার গান থাকত।কনকচাঁপা জানান, রাজ্জাক তাকে আদর করে ‘কনাচাঁপা’ বলে ডাকতেন। তার স্বামীকে ডাকতেন ‘জামাইবেটা’। তাদের সঙ্গে নিজের মেয়েজামাইয়ের মতোই আচরণ করতেন তিনি।রাজ্জাকের সঙ্গে একটি মজার স্মৃতিও তুলে ধরেন কনকচাঁপা। তিনি লিখেছেন, ‘আমি ভাবতাম—আমার সময়ে যদি রাজ্জাক-কবরীকে পেতাম!’ এর জবাবে রাজ্জাক বলেছিলেন, ‘আহা! আমাদের সময়ে যদি তোমাকে পেতাম!’ একবার কনকচাঁপা পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলে রাজ্জাক তাকে বলেছিলেন, ‘এ মেয়ে তো পাগলি আছে!’রাজ্জাকের সরলতা ও আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে কনকচাঁপা বলেন, এত বড় একজন মানুষ হয়েও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল। রেকর্ডিংয়ের সময় সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে খাবার খেতেন। কনকচাঁপা রেকর্ডিংয়ে ভাত না খেলে রাজ্জাক তার জন্য কাবাব আনতে বলতেন।রাজ্জাকের পারিবারিক জীবন ও সন্তানদের প্রসঙ্গেও স্মৃতিচারণ করেন কনকচাঁপা। তার ভাষ্য, রাজ্জাক সবসময় পরিবার নিয়েই চলাফেরা করতেন এবং তার সন্তানরাও বাবার ভদ্র শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন—এ বিষয়টি খুব সহজেই বোঝা যেত।কনকচাঁপার স্মৃতিতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে রাজ্জাক আরও পরিণত, রাশভারী ও অনেকটাই চুপচাপ হয়ে উঠেছিলেন। তবে তার হাসিতে আগের সেই আকর্ষণ স্পষ্ট ছিল।নায়করাজের অভিনয় ও চলচ্চিত্রে অবদানের কথা স্মরণ করে কনকচাঁপা বলেন, তার সাবলীল ও সবসময়কার আধুনিক অভিনয় বাংলা ভাষাভাষী মানুষ কখনো ভুলবে না। তার প্রতিভা ও অবদান নিয়ে কথা বলার সাহস নিজের নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।কনকচাঁপার ভাষায়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র দাঁড়ানোর জন্য রাজ্জাক তার শক্তি স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করেছেন এবং বাংলাদেশকে উজাড় করে দিয়েছেন। সবশেষে নায়করাজের আত্মার শান্তি কামনা করেন এই সংগীতশিল্পী।তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা