বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বড় বড় মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল।তিনি বলেন, ‘বড় প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতি করার সুযোগ তৈরি হয়। মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করা হয়েছে, মেগা টাকা লুটপাট করা হয়েছে।’বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নগরীর শায়েস্তা খাঁ সড়কের শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবির এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। তাঁর দাবি, পাচার হওয়া ওই অর্থ দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো ১০ থেকে ১২টি সেতু নির্মাণ করা সম্ভব ছিল।তবে ২৩৪ বিলিয়ন ডলারের বিষয়টি ২০২৪ সালের অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্রে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক অবৈধ অর্থপ্রবাহের হিসাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। শ্বেতপত্রের হিসাবে ওই সময়ে গড়ে বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার অবৈধ অর্থপ্রবাহের কথা বলা হয়।শিবির সভাপতি বলেন, দেশের মন্ত্রী-এমপিদের সন্তানরা দেশে পড়াশোনা করেন না এবং তাঁরাও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। দেশের মন্ত্রী-এমপিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার দিনটিকে তিনি দেশের উন্নতির একটি সূচক হিসেবে উল্লেখ করেন।দেশে মেধার সংকট নেই উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘আমাদের দেশে মেধার কোনো সমস্যা নেই, সংকটও নেই। সংকট হচ্ছে সততা ও দেশপ্রেমের।’অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান। এতে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম ও মহানগর সেক্রেটারি আমজাদ হোসাইনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।তথ্যসূত্র: যুগান্তর, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬; ২০২৪ সালের অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্র।