শেয়ারবাজারে কারসাজি, জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ সাতবার পেছাল।বুধবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলার অন্য আসামিরামামলায় সাকিব আল হাসান ছাড়া আসামিরা হলেন—সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক আবুল খায়ের ওরফে হিরু, তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, মো. জাহেদ কামাল, মো. হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজাম।২৫৬ কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগদুদকের মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্টে ধারাবাহিক ও সন্দেহজনক লেনদেন, প্রতারণামূলক সক্রিয় ট্রেডিং, জুয়া ও অনুমাননির্ভর লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে কারসাজি করেন। নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সেসব শেয়ারে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করার অভিযোগও রয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে মোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, আবুল খায়ের ওরফে হিরুর শেয়ারবাজারে কারসাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ও সোনালী পেপারসের শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেন। এতে তিনি বাজার কারসাজিতে সহায়তা করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করার মাধ্যমে ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা ‘রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন’ হিসেবে অর্জন করেন বলে দুদকের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি; মামলাটি তদন্তাধীন।