প্রিয়জনের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সান্ত্বনা দেওয়া এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা ইসলামের শিক্ষা। তবে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৃতীয় দিন, চল্লিশা কিংবা মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করে মানুষকে খাওয়ানোকে শরিয়ত নির্ধারিত কোনো আমল হিসেবে গ্রহণের প্রমাণ নেই। বরং মৃতের পরিবারের ওপর এ ধরনের আয়োজনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়াকে ইসলামী সহমর্মিতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলা হয়েছে।সুন্নাহ হলো—আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা শোকাহত পরিবারের জন্য খাবার প্রস্তুত করে তাদের সহযোগিতা করবেন। জাফর ইবনে আবু তালিব (রা.)-এর শাহাদাতের সংবাদ পেয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর পরিবারের জন্য খাবার প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা জাফরের পরিবারের জন্য খাবার প্রস্তুত করো। কারণ তাদের ওপর এমন বিপদ এসেছে, যা তাদের ব্যস্ত ও বিচলিত করে রেখেছে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৩১৩২; জামে তিরমিজি, হাদিস : ৯৯৮)ফিকহের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোতেও মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ খাবারের আয়োজনকে অপছন্দনীয় বলা হয়েছে। ফাতাওয়ায়ে বাযযাজিয়া-তে বিপদের দিনগুলোতে আপ্যায়নের আয়োজনকে মাকরুহ বলা হয়েছে। (ফাতাওয়ায়ে বাযযাজিয়া, ৬/২৭৯)ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রদ্দুল মুহতার-এ মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে খাবারের আয়োজনকে অপছন্দনীয় উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের আয়োজন সাধারণত আনন্দের সময়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত; বিপদের সময়ে এমন আয়োজন উপযুক্ত নয়। (রদ্দুল মুহতার, ৩/১৪৮)নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণের বিধান