নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্ব নারী নেতৃবৃন্দের বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।বুধবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশ্বের শীর্ষ নারী কূটনীতিক ও নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ জোরদারের অঙ্গীকারকে সামনে রেখে সভাটির আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান এবং ইউএন উইমেনের যৌথ উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।সভায় মূল বক্তব্য দেন জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউস। তিনি বলেন, শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নীতি নির্ধারণের প্রতিটি পর্যায়ে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশ্বজুড়ে নারী নেতৃবৃন্দ বিদ্যমান বাধা অতিক্রম করে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সিমা বাহাউস বলেন, ‘জেন্ডার স্ন্যাপশট’ প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে প্রতি সাতটি দেশের মধ্যে মাত্র একটি দেশের নেতৃত্বে একজন নারী রয়েছেন। বর্তমান অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকলে পূর্ণাঙ্গ লিঙ্গসমতা অর্জনে আরও ১৭১ বছর সময় লাগতে পারে। এ দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্যক্রম আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।সভায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির নকশা ও বিকাশে নারীর নেতৃত্ব জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘের মহাসচিব পদে একজন নারী নির্বাচনের প্রতিও সমর্থন জানানো হয়।ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও সভায় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী জুডিথ সুমিনওয়া তুলুকা এবং ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচ অংশ নেন।এ ছাড়া আন্ডোরার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইম্মা তোর ফাউস, আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেলেন ম্যাকএন্টি, ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র সচিব থেরেসা লাজারো, আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থরগের্দুর কাত্রিন গুনারসদোতির, জ্যামাইকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামিনা জনসন স্মিথ এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম সভায় উপস্থিত ছিলেন।তথ্যসূত্র: যুগান্তর, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬; জাতিসংঘ উইমেনের বিজ্ঞপ্তি।