নেশার টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধের জেরে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ফুল মিয়া নামে এক তরুণের বিরুদ্ধে। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, বই-খাতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তালাবদ্ধ ঘরে থাকা প্রায় অর্ধশত হাঁস-মুরগি পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় ফুল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে কুলিয়ারচর পৌর এলাকার বড়খারচর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে স্থানীয় একটি দোকানে বাকিতে পণ্য না দেওয়ায় দোকানদারের সঙ্গে ফুল মিয়ার বাগ্বিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে বাড়িতে ফিরে তিনি বাবা আবু বক্কর, মা রুবিনা বেগম ও বোনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে দা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে।স্বজনেরা প্রাণভয়ে বাড়ির বাইরে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তা চাইলে ফুল মিয়া নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।খবর পেয়ে কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই ঘরের আসবাবপত্র, বই-খাতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রায় অর্ধশত হাঁস-মুরগি পুড়ে যায়।কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইলিয়াস ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।অভিযুক্তের মা রুবিনা বেগমের অভিযোগ, ফুল মিয়া নিয়মিত নেশার টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন করতেন। টাকা না দিলে দা নিয়ে হামলার চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ছেলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান রুবিনা।তিনি বলেন, ফুল মিয়াকে কঠোর আইনের আওতায় না আনা হলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অভিযুক্তের বাবা আবু বক্কর ও ছোট ভাই দিপুও ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত ফুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।