হামলার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় দূরপাল্লার বাস বন্ধের হুঁশিয়ারি
প্রথম দর্পণ, ডেস্ক||
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:৪ সময়
পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা, বাস আটকে রাখা এবং মহাসড়কে অবৈধ ইজিবাইক চলাচল বন্ধের দাবিতে চুয়াডাঙ্গার পাঁচটি আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। দাবি পূরণ না হলে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে চুয়াডাঙ্গা থেকে দূরপাল্লার সব বাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের জরুরি সভায় ধর্মঘট অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা থেকে দূরপাল্লার বাস বন্ধের এ ঘোষণা দেওয়া হয়।মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা, বাস আটকে রাখা এবং মহাসড়কে অবৈধ ইজিবাইক চলাচল বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এসব দাবি পূরণ না হলে দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ রাখা হবে। এতে সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।যে ঘটনায় ধর্মঘটএর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দামুড়হুদার ফকিরপাড়া এলাকায় ইজিবাইক ও পাখিভ্যান চালকদের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের বিরোধের ঘটনা ঘটে। বাস শ্রমিকদের অভিযোগ, এ সময় তাদের ওপর হামলা করা হয় এবং মহাসড়কে বাস আটকে রাখা হয়।তবে এর আগে গত ২৭ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা শহরের দৌলতদিয়াড় এলাকায় ইজিবাইক চলাচলকে কেন্দ্র করে একই ধরনের বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল। ওই সময় একটি ইজিবাইক শহরে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তাকে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেন।পরে ওই ইজিবাইকচালক তাঁর সহযোগীদের নিয়ে আলোকদিয়া এলাকায় সংগঠিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাস আটকে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি বাসে হামলা ও তাঁদের জিম্মি করে রাখার অভিযোগ ওঠে।খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে জিম্মি থাকা বাসচালক ও সুপারভাইজারকে উদ্ধার করে।ওই ঘটনার প্রতিবাদে জেলার অভ্যন্তরীণ পাঁচটি রুটে বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। পরে জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বাস মালিক গ্রুপ ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়।বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে পাঁচটি আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। দাবি পূরণ না হলে মঙ্গলবার সকাল থেকে দূরপাল্লার বাসও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।