ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলাকে সামনে রেখে রাস্তা সম্প্রসারণের প্রকল্পের অংশ হিসেবে মসজিদের সড়কের মধ্যে পড়া অংশ সরানোর উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রশাসন। এ নিয়ে মুসলিমদের একাংশের প্রতিবাদ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।২৮ সেপ্টেম্বর মসজিদ এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হলে পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করে। পুলিশের অভিযোগ, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করা হয়। ওই এলাকায় প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন এবং মসজিদের আশপাশে ব্যারিকেড দেওয়া হয়।রাস্তা সম্প্রসারণের প্রকল্পউজ্জয়িনী প্রশাসনের ভাষ্য, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলায় বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর সমাগম হবে। তাঁদের যাতায়াত সহজ করতে শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে মসজিদসহ বেশ কিছু স্থাপনা প্রভাবিত হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৯ কোটি ৮০ লাখ রুপি এবং ৭৩০ মিটার সড়ক সম্প্রসারণের আওতায় ২৭২টি স্থাপনা প্রভাবিত হওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।মসজিদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ স্বেচ্ছায় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চও সংশ্লিষ্ট দুটি আপিল নিষ্পত্তি করে। আদালতকে জানানো হয়, মসজিদপক্ষ ও উজ্জয়িনী পৌর করপোরেশনের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে এবং উভয় পক্ষ সেই সমঝোতা মেনে চলবে।মসজিদ কমিটির এক সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রায় সাড়ে ৯ ফুট অংশ অপসারণের কথা থাকলেও সমঝোতায় প্রায় ৩ ফুট অংশ সরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাস্তা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তারা মেনে নিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি নিরাপদভাবে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ও মামলামসজিদের অংশ অপসারণের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ২৮ সেপ্টেম্বর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে শান্তি বিঘ্নিত করা, পাথর নিক্ষেপসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগেও কয়েকজনকে আটক করা হয়।পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদ পুরোপুরি ভেঙে ফেলার মতো বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও ছড়ানোর কারণেও উত্তেজনা বাড়ে। পুলিশ এ ধরনের গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।মসজিদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে অভিযোগপরবর্তী সময়ে মিনারের অংশ অপসারণের সময় মসজিদের গম্বুজ ও প্রথম তলার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে যন্ত্রপাতিজনিত অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় মুসলিমদের একাংশ এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার দাবি জানিয়েছে।ঘটনাটি নিয়ে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষা ও ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে উজ্জয়িনী প্রশাসনের বক্তব্য, পুরো প্রক্রিয়াটি সড়ক সম্প্রসারণ ও ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভের অবকাঠামোগত প্রস্তুতির অংশ এবং মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই কাজ এগোচ্ছে।