চাকরিতে রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবিঢাবি প্রতিনিধি৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের পুনর্বিবেচনা করে নিয়োগের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে চাকরিতে দলীয়করণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ‘ভেরিফিকেশন’ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডাকসুর নেতারা।ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে একের পর এক বৈষম্যের কারণে বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় চাকরি দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের আগামী ১২ অক্টোবর যোগদানের আগেই গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে ডাকসুর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি কলাভবন ও মধুর ক্যানটিন প্রদক্ষিণ করে ডাকসু ভবন প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম আপনারা পাঁচ বছর ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করুন। কিন্তু এখন বিএনপির যে অবস্থা, বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’চাকরিতে ‘ভেরিফিকেশন’-এর নামে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সংবিধানের ২৯ নম্বর ধারায় নাগরিকদের সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগের যে অধিকার রয়েছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দিয়ে তা উপেক্ষা করা হচ্ছে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার সংকট এবং লোডশেডিং নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, দলীয়করণের মাধ্যমে তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা হচ্ছে।সাদিক কায়েম আরও অভিযোগ করেন, এর আগে এনটিআরসিএ ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও ‘ভেরিফিকেশন’-এর নামে চাকরিপ্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তার ভাষ্য, অতীতে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে; একই ধরনের বৈষম্য পুনরায় তৈরি হলে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে।‘মেধার বাইরে কোনো বিষয় বিবেচনা করা যাবে না’ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মুহা. মহিউদ্দিন খান বলেন, চাকরিতে মেধার বাইরে কোনো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নয়। ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধি, এনটিআরসিএর নিয়োগ এবং বিসিএসের ‘ভেরিফিকেশন’ নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে তিনি দাবি করেন।তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়, মত বা পারিবারিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থীকে বিবেচনা করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।সমাবেশে ডাকসুর নেতারা অভিযোগ করেন, বিসিএস ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করে বিরোধী মতের প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তারা বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফল ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কোনো প্রার্থী বঞ্চিত হলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।বাদ পড়া প্রার্থীদের বক্তব্যসমাবেশে ৪৯তম বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থীও বক্তব্য দেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহেল রানা দাবি করেন, ৪৯তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে মেধাক্রমে প্রথম হয়েও তিনি চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া প্রার্থীসহ ৫৭ জনের নাম স্থান পায়নি।সমাবেশে বক্তব্য দেওয়া আরেক প্রার্থী রেজোয়ান আহমেদ তাহমিদ বলেন, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরীক্ষার পর সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও তিনি চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পাননি। তার দাবি, ভেরিফিকেশনের সময় তার রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল।৫৭ জন বাদ পড়া নিয়ে সরকারি ব্যাখ্যাও এসেছে৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে পিএসসির সাময়িকভাবে মনোনীত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে ৫৭ জনের নাম প্রথম গেজেটে ছিল না। তবে গেজেটে তাদের বাদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।তবে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাদ পড়া ৫৭ জনের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। তার হিসাবে প্রকৃতপক্ষে ৪৬ জনের নিয়োগের বিষয় যাচাই-বাছাইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি জানান, যাচাই-বাছাই শেষে ৪৬ প্রার্থীর নিয়োগের গেজেট আগামী ৫ অক্টোবর প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো প্রার্থীর প্রতি বৈষম্য করা হবে না বলেও তিনি জানান।অন্যদিকে, পিএসসি জানিয়েছে, তারা সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ; নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যাচাই-বাছাই শেষে নিয়োগের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।সমাবেশ থেকে ডাকসুর নেতারা ৪৯তম বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয় দ্রুত পুনর্বিবেচনা, স্বচ্ছ ভেরিফিকেশন এবং চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানান।