দুই বছরেও সংস্কার নেই খানাখন্দে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়ক। খানাখন্দে ভরা এই সড়কে বাড়ছে যাত্রীদের ভোগান্তি। এই দুর্ভোগ নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না । জানা গেছে, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়ক দুই বছর ধরে বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে। সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দে ভরা। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও আবার সেতুর সংযোগস্থলের মাটি সরে তৈরি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। এর মধ্যেই প্রতিদিন চলছে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান। দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহালেও স্থায়ী সংস্কারের অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না।হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং ভায়া শিবপাশা সড়কটি সংস্কার না করায় এই পরিস্থিতি হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিরাট ভাটীপাড়া এলাকা থেকে শিবপাশা ইউনিয়নের শিবপাশা সবুজগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ দশমিক ১৫০ কিলোমিটার সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ দেখা দিলেও স্থায়ী সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে সময়ের সঙ্গে ছোট গর্তগুলো বড় হয়েছে, ভেঙে গেছে সড়কের বিভিন্ন অংশ। সেতুর সংযোগস্থলেও মাটি সরে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে ঝুঁকি। প্রায়ই এই সংযোগস্থলে এসেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে ছোট-বড় সব গাড়ি।সরেজমিনে বিরাট ভাটীপাড়া থেকে শিবপাশা সবুজগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। যানবাহনগুলোকে এসব গর্ত এড়িয়ে কিংবা ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশ ও সেতুর গোড়ার মাটি সরে গেছে যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করছে সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, পণ্যবাহী যানসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিবপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা আলিমুল হোসাইন বলেন, এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন উপজেলা সদরে যেতে হয়। কিন্তু সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রায়ই রোগী নিয়ে উপজেলা সদর হাসপাতালে যেতে হলে খুবই কষ্ট করে যেতে হয়। যার ফলে সময় বেশি লাগে, রোগীরা আরো গুরুতর হয়। কবির মিয়া নামে আরেকজন জানান, দুই বছর ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ। দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহালেও এখনো স্থায়ী সংস্কার হচ্ছে না। আজমিরীগঞ্জ সদরে সিএনজি অটোরিকশা চালক রায়হান মিয়া বলেন, সড়কের গর্তের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। গত দুইদিনে কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ ১০জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিনের আয়ের বড় একটি অংশ গাড়ি মেরামতেই চলে যায়।এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ১০ দশমিক ১৫০ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্তকরণের জন্য প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি এস্টিমেট তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদন এখনো প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে এলজিইডি।আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ওয়াইডেনিং প্রজেক্ট থেকে আমরা পিডি অফিসে এস্টিমেট পাঠিয়েছি। আশা করি এই মাসের মাঝামাঝি সময় অনুমোদন হয়ে যাবে। অনুমোদন পেলে দ্রুত রাস্তার সংস্কারকাজ শুরু হবে।