নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি লাতিন আমেরিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন ভোটারদের সমর্থনে বড় ধরনের ভাটা পড়েছে। রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে এই ভোটারদের মাত্র ২৪ শতাংশ ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ট্রাম্পের দুই মেয়াদের কোনো সময়েই লাতিন ভোটারদের মধ্যে তাঁর সমর্থন এত নিচে নামেনি।সোমবার শেষ হওয়া ছয় দিনের ওই জরিপে দেখা গেছে, সামগ্রিকভাবেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের অনুমোদন রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। মাত্র ৩২ শতাংশ মার্কিন ভোটার তাঁর কাজের অনুমোদন দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরেও এই হার ছিল ৩২ শতাংশ।২০২৪-এ বাড়তি সমর্থন, এবার বড় ধাক্কা২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লাতিন ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ওই নির্বাচনে ট্রাম্প ৪৮ শতাংশ লাতিন ভোট পেয়েছিলেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিস পেয়েছিলেন ৫১ শতাংশ। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ৩৬ শতাংশ লাতিন ভোটার।বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে লাতিন ভোটারদের বাড়তি সমর্থন ট্রাম্পের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে সর্বশেষ জরিপ বলছে, সেই সমর্থনের বড় অংশ এখন আর তাঁর সঙ্গে নেই।মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫২ শতাংশ লাতিন ভোটার ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন ২৬ শতাংশ।ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গণভোট৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ওপর এক ধরনের গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বহাল থাকবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।ট্রাম্পের কমে যাওয়া জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসে অবস্থান শক্ত করতে চাইছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। কংগ্রেসের একটি বা উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে।রিপাবলিকান শিবিরেও অসন্তোষট্রাম্পকে নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলছে। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি মারিয়া এলভিরা সালাজার গত মাসে প্রকাশিত একটি নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে বলেন, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে ফিরতে সহায়তা করা লাতিন ভোটাররা এখন নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন।ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে সালাজার বলেন, যেসব অভিবাসীর কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তাঁদের আটক ও বহিষ্কারের মতো কিছু পদক্ষেপ সীমা অতিক্রম করেছে।জীবনযাত্রার ব্যয়, ইরান যুদ্ধেও চাপবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে ভূমিকা রাখছে। এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপরও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা।তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় নিয়ে এখনো আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে তিনি ৩২ দিনের দেশব্যাপী প্রচার কর্মসূচি শুরু করেছেন। দলের প্রার্থীদের হয়ে তাঁর প্রচারে অংশ নেওয়া নিয়ে রিপাবলিকানদের আপত্তির খবর অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘তারা সবাই চান আমি প্রচারে যাই।’তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপ; পিউ রিসার্চ সেন্টার; আল-জাজিরা।