খনি অঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের আকাবা বন্দরে ফসফেট পরিবহনে যৌথভাবে রেলপথ নির্মাণ শুরু করেছে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ খনি এলাকাকে সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।সোমবার আকাবা-আল-শিদিয়াহ-মাআন রেলওয়ে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জর্ডান-ইউএই রেলওয়ে কোম্পানি। যৌথ বিনিয়োগে নির্মিতব্য এই রেল নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য হবে ৪০৩ কিলোমিটার। এর মাধ্যমে আল-শিদিয়াহ খনি এলাকা থেকে আকাবা বন্দরে বিপুল পরিমাণ ফসফেট পরিবহন করা হবে।বছরে ১ কোটি ৩০ লাখ টন ফসফেট পরিবহনপ্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টন ফসফেট শিদিয়াহ থেকে আকাবা বন্দরে পরিবহন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রেললাইনটি মাআন ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে আকাবা ও মাআনের মধ্যে পণ্য পরিবহন আরও কার্যকর হবে এবং খনিজ পরিবহনের ব্যয় কমবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।এর আগে গত এপ্রিল মাসে জর্ডান ও ইউএই খনিজসম্পদ পরিবহনের জন্য রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণে চুক্তি করে। ওই চুক্তিতে ৩৬০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের পাশাপাশি শিদিয়াহ ও ঘোর আল-সাফি এলাকার ফসফেট ও পটাশ খনিকে আকাবা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। সরকারি নথি অনুযায়ী, ওই প্রকল্পের মোট পরিবহন সক্ষমতা বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টন ফসফেট ও পটাশ।রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যজর্ডানের অর্থনীতিতে খনিজ রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নতুন রেলপথ চালু হলে খনি অঞ্চল থেকে বন্দরে খনিজ পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জর্ডানের ফসফেট ও পটাশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে দেশটি।একই সঙ্গে আকাবা বন্দরকে আঞ্চলিক পরিবহন ও লজিস্টিকস কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে জর্ডানের।জাতীয় রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাপ্রকল্পটিকে জর্ডানের বৃহত্তর জাতীয় রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করে আঞ্চলিক বাজারের সঙ্গে দেশটির সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।এপ্রিলের চুক্তি-সংক্রান্ত সরকারি তথ্যে সিরিয়া, তুরস্ক, ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ রেল সংযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন রেলপথ শুধু খনিজ পরিবহনে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মাধ্যমে দক্ষিণ জর্ডানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় শিল্প ও বেসরকারি খাতে নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্যে প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।জর্ডান-আমিরাতের এ যৌথ রেল প্রকল্পকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বেরও প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকল্পটি জর্ডানের খনিজসম্পদকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করবে এবং আকাবা বন্দরকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।তথ্যসূত্র: আরব নিউজ, এমিরেটস নিউজ এজেন্সি (ডব্লিউএএম) ও ইনভেস্ট জর্ডান।