রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চারজনের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজনেরই বর্তমানে নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় তাঁদের সনদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক নেতারা। অন্যদিকে, প্রাথমিক সিদ্ধান্তের পর ঘটনাটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি (বহিষ্কৃত) আহসান হাবিব, অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত বিশাল চক্রবর্তী, ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং রাকসু শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলাম।দুজনের নিয়মিত ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্নতদন্ত কমিটির সুপারিশে থাকা আহসান হাবিব কয়েক বছর আগেই পড়াশোনা শেষ করেছেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর চাঁদাবাজির অভিযোগে তাঁকে সাময়িকভাবে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে একাধিকবার সংগঠন থেকেও বহিষ্কার করা হয়। পরে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিতে তাঁকে সহসভাপতি করা হয়। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সর্বশেষ তাঁকে আবারও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।অন্যদিকে, অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত বিশাল চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ না করেই বেরিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহিল গালিবের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়েছে।সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজে বিশালকে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক নূর আহসান মৃদুলকে টেলিস্কোপিক ব্যাটন দিয়ে আঘাত করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।দীর্ঘ সময়েও তৃতীয় বর্ষে হাসিবুলসুপারিশপ্রাপ্ত আরেকজন হাসিবুল ইসলাম ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তবে বর্তমানে তিনি ওই বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক কারণে তাঁকে কারাগারে যেতে হয়েছিল বলে জানা গেছে। এতে তাঁর পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে এবং পরে তাঁকে আবার ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়।সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে চাঁদাবাজির অভিযোগেও তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিতে তাঁকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।স্থায়ী ব্যবস্থা ও সনদ বাতিলের দাবিবিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্তের ভিত্তিতে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং যাঁদের ছাত্রত্ব নেই, তাঁদের সনদ বাতিলের ব্যবস্থা নিতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে অধিকতর ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটির তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সুপারিশগত ৪ অক্টোবর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও দোষীদের শাস্তির সুপারিশ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।কমিটি আহসান হাবিব, বিশাল চক্রবর্তী, হাসিবুল ইসলাম ও রাকসু শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে।