কক্সবাজারের পেকুয়ায় বারবাকিয়া-জালিয়াকাটা ভায়া রাজাখালী দশেরঘোনা সংযোগ সড়কে ভোলা খালের ওপর ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন আর্চ ব্রিজ। ৬৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজের প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যে পুরোনো সেতুর পাশে বিকল্প সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল আমিন অ্যান্ড আজম কনস্ট্রাকশন। নতুন সেতুটি নির্মিত হলে দুই ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ভোগান্তি কমার পাশাপাশি কুতুবদিয়া ও বাঁশখালীর সঙ্গে যাতায়াতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ফরিদপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল আমিন অ্যান্ড আজম কনস্ট্রাকশন। নির্মাণকাজ চলাকালে মানুষের যাতায়াত সচল রাখতে জালিয়াকাটা পুরোনো সেতুর পাশে ভোলা খালে বাঁধ দিয়ে বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো সেতুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সেতুর ঢালাই ভেঙে বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রায়ই যান চলাচল ব্যাহত হতো। কখনো কখনো যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে দুর্ভোগে পড়তে হতো স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ অবস্থায় সেতুটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী।বারবাকিয়া ও রাজাখালী ইউনিয়নের মানুষের সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সড়ক। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজার থেকে মগনামা হয়ে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া এবং বাঁশখালীতে যাতায়াতের বিকল্প পথ হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থী, লবণচাষি, মৎস্যচাষিসহ হাজারো মানুষ চলাচল করেন। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাঁদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হতো।বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, জালিয়াকাটা সেতুটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ও সংস্কারহীন ছিল। নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশাবাদী। এটি নির্মিত হলে শিক্ষার্থী, লবণচাষি, মৎস্যচাষিসহ এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল হোছাইন বলেন, বারবাকিয়া-জালিয়াকাটা সেতুটির প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন আর্চ ব্রিজ হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন বলেন, “সেতুটি শুধু দুটি ইউনিয়নের সরাসরি যোগাযোগ সহজ করবে না, বরং কুতুবদিয়া ও বাঁশখালীর মানুষের জন্যও একটি কার্যকর বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে ভূমিকা রাখবে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলে কৃষিপণ্য, লবণ ও মাছ পরিবহন আরও সহজ হবে। পাশাপাশি যাতায়াতের সময় ও ব্যয় কমার মধ্য দিয়ে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটিয়ে ভোলা খালের দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।