জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন কোনো রাজনৈতিক দলের ভুল সিদ্ধান্ত ও লোভ-লালসার বলি হতে দেওয়া হবে না।রোববার বিকেলে সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রি মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিমামুনুল হক বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর বৈষম্যহীন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ৩৩টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ নয় মাসের আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বিএনপি সরকার গঠনের পর জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করা না হলে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ব্যাহত হবে।খেলাফত মজলিসের আমিরের মতে, সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসন ও সরকারি কর্ম কমিশনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা সম্ভব।ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিযোগবিএনপির সমালোচনা করে মামুনুল হক অভিযোগ করেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখা, লুটপাটের সুযোগ বজায় রাখা এবং বিচার বিভাগকে প্রভাবমুক্ত হতে না দেওয়ার স্বার্থে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের বিকল্প নেই। রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।বর্তমান সরকারের বিভিন্ন খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার না হলে বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের সংকট নিরসন এবং এ খাতকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করাও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের আহ্বানসমাবেশ থেকে দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান মামুনুল হক। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন তিনি।জুলাই সনদের আলোকে দ্রুত সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা এমরান আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দীন আহমদ, ময়মনসিংহ অঞ্চলের নেতা সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান, মহানগর আমির মো. ফখরুল ইসলাম এবং সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহিনুর পাশা চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।