যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ভারত। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি হিন্দু মন্দিরে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যার কথিত পরিকল্পনার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে দেশটিতে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, মন্দিরে হামলার কথিত পরিকল্পনায় হিন্দু-বিদ্বেষী ও বর্ণবাদী মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে, যা উদ্বেগজনক।গত ১১ অক্টোবর ইলিনয়ের প্যালাটাইন এলাকা থেকে ১৯ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অঙ্গরাজ্যের অরোরা এলাকায় অবস্থিত একটি হিন্দু মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।ভারতীয়, ইহুদি ও কৃষ্ণাঙ্গদের লক্ষ্য করার অভিযোগতদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত তরুণ তাঁর সহকর্মীদের কাছে আট পাতার একটি ডিজিটাল নথি পাঠিয়েছিলেন। এতে ভারতীয়, ইহুদি ও আফ্রিকান-আমেরিকানদের অবমাননাকর ভাষায় উল্লেখ করার পাশাপাশি এসব জনগোষ্ঠীর যত বেশি সম্ভব মানুষকে হত্যার পরিকল্পনার কথা লেখা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মতাদর্শের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।বিদ্বেষমূলক সহিংসতায় ‘জিরো টলারেন্স’ চায় ভারতভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি তারা জানে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদী বিদ্বেষ ও ভারতবিরোধী মনোভাব নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরেছে নয়াদিল্লি।ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রশাসনকে দেশটিতে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও অনুরোধ করেছে তারা।ভারতের প্রত্যাশা, মার্কিন কর্তৃপক্ষ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার পরিকল্পনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দেওয়া ও বেআইনিভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্যালাটাইন ও মাউন্ট প্রস্পেক্টের পুলিশ সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। তদন্তকারীদের ধারণা, ১১ অক্টোবরই মন্দিরটিতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর।