প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখতে অপেক্ষায় রয়েছেন রাজশাহীবাসী। শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময়ে মঙ্গলবার তাঁর রাজশাহী সফর ঘিরে নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি উৎসাহ। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-প্রত্যাশা, কর্মসংস্থান সংকট ও নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে কী ঘোষণা আসে, সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছেন নগরবাসী।প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাঁর সম্ভাব্য যাতায়াতের পথ এবং নির্ধারিত কর্মসূচিকে ঘিরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে আলোচনা। প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি দেখা ও তাঁর বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রাজশাহীতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ধর্মসভা মন্দিরে যাবেন। সেখানে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে উদ্যোগ চান তরুণেরাশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ স্থানীয়ভাবে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরির প্রত্যাশা করছেন।পাশাপাশি কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ চান সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, স্থানীয় সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে রাজশাহী অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দেবে।নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর প্রত্যাশানগরবাসীর প্রত্যাশার তালিকায় রয়েছে যানজট নিরসন, সড়কের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা।এ ছাড়া পদ্মা নদীকে ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিকাশ, সীমান্তবর্তী এলাকার বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রাজশাহী বিভাগের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এসব সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।জনসভায় কী বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রীপ্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীর উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তা জানতে চান নগরবাসী।রাজশাহীবাসীর প্রত্যাশা, সফরটি আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও জনসভায় সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয় সমস্যা সমাধান এবং উন্নয়ন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর কার্যকর উদ্যোগের পথ তৈরি করবে।সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে রাজশাহীতে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ। তাঁকে একনজর দেখার আগ্রহের পাশাপাশি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন নগরবাসী। এখন তাঁদের দৃষ্টি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভার দিকে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে রাজশাহীর জন্য কী বার্তা আসে, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।