নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকচালকসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাবা ও তাঁর আট বছর বয়সী মেয়েও রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজন মারা যান।সাত সদস্যের তদন্ত কমিটিদুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। পরে তাঁরা নাটোর সদর হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।এ সময় হুইপ দুলু নিহতদের পরিবারের জন্য এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি।কমিটিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক, ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন।যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনাবনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন জানান, নাটোর থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রীবাহী আরপি স্পেশাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।ট্রাকটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট ২২-৬২০৬ এবং বাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৪৪৪৫। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নয়জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আক্তার হামিদ জানান, খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নাটোরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।নিহতদের মধ্যে বাবা-মেয়েদুর্ঘটনায় নিহত ১২ জন হলেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সোহেল রানা (৪১), বাগমারা উপজেলার আনোয়ারুল হক (২৯), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার শহীদুল ইসলাম (৪৫) ও তাঁর মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জুয়েল (৩৯), সোহাগ শিকদার (৩০), আব্দুস সালাম মোল্লা (৪৫), আব্দুস সামাদ ফকির (৭১) ও শাহীন আহমেদ (৩২), ট্রাকচালক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আবু কালাম (৫৫), নওগাঁর সাপাহার উপজেলার রাসেল (৩৩) এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার হিমেশ জমাদার (৩৪)।আহতদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শরীয়তপুরের আলমগীর মাতবর (৫৬), চাঁপাইনবাবগঞ্জের আব্দুস সালাম (৩৪) ও ওয়াহিদ আলী (২০), মাদারীপুরের নাইম তালুকদার (২১), নার্গিস আক্তার (৩৫), বরগুনার জেসমিন আক্তার (৩৫), নওগাঁর চিরঞ্জিত কুমার (২৫), মান্দার মানিক হোসেন (৩৭) ও শাহাজুল ইসলাম (৩৬) এবং লক্ষ্মীপুরের রাকিব হোসেন (২৫)। অন্য আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।১২ বছর আগের সেই দিনেই আবার প্রাণহানি২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর বড়াইগ্রামের রেজুর মোড়ে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই দুর্ঘটনার ১২ বছর পূর্তির দিনেই একই এলাকায় নতুন করে প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।