ঈশ্বরদীতে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আমির হামজার তাফসির মাহফিল সম্পন্ন
প্রথম দর্পণ, ডেস্ক||
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:৪৫ সময়
ছাত্রদলের আপত্তি ও নানা আলোচনা-সমালোচনার পর সাহাপুরে সম্পন্ন ধর্মীয় আয়োজনপাবনার ঈশ্বরদীতে স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলার সাহাপুরে আয়োজিত এ মাহফিলে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে। রাজনৈতিক বক্তব্যের আশঙ্কায় স্থানীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সাহাপুরের কদিমপাড়া দারুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে মরহুম সিরাজ মৃধার ধানের চাতালে মাহফিলটির আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল। প্রধান বক্তা হিসেবে তাফসির পেশ করেন মুফতি আমির হামজা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাদ্রাসার পরিচালক মাহমুদ হোসেন শাহজাহান।মাহফিল ঘিরে আগে থেকেই আলোচনাআয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একই মাদ্রাসার উদ্যোগে এর আগে মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিল আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজনৈতিক বাধার কারণে পরপর দুই বছর তা স্থগিত করতে হয়েছিল। এ কারণে এবার অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়। একই সঙ্গে মাহফিলকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উত্তেজনাও বাড়ে।ছাত্রদলের স্মারকলিপিমাহফিলের আগে ধর্মীয় মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্য, দলীয় প্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণের আশঙ্কা প্রকাশ করে ঈশ্বরদী থানায় স্মারকলিপি দেয় সাহাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল। গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মহনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।স্মারকলিপিতে বলা হয়, ধর্মীয় আলোচনা ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে ওয়াজ মাহফিল ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ধর্মীয় মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্য বা উসকানিমূলক মন্তব্য করা হলে স্থানীয় পরিবেশ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।ছাত্রদলের এ উদ্যোগের পর মাহফিলের আয়োজন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। তবে বুধবারের অনুষ্ঠানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।আলোচনায় স্থানীয় আলেমরাওমাহফিলে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার মাওলানা হাফিজুর রহমান জিহাদী ও ঈশ্বরদীর হাফেজ মাওলানা সোহাইল মাহমুদ। এ ছাড়া স্থানীয় আলেমরাও ধর্মীয় আলোচনা করেন।বিভিন্ন আপত্তি ও রাজনৈতিক আলোচনা সত্ত্বেও মাহফিল সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজনে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। তবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।