ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম অংশে ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ায় আতঙ্কে রয়েছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মিশুকের চালকের ছদ্মবেশে ছিনতাইকারীরা বিশেষ করে নারী যাত্রীদের টার্গেট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কখনো চলন্ত যানবাহন থেকে ব্যাগ টান দিয়ে, আবার কখনো যাত্রীবেশে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে মারধর ও অচেতন করে সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। দিনদুপুরেও এমন ঘটনায় মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।চালকের ছদ্মবেশে ছিনতাইস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৈনন্দিন প্রয়োজনে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাতায়াত করেন। স্বল্প দূরত্বে চলাচলের সহজ মাধ্যম হিসেবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মিশুক ব্যবহার করেন অনেকে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চালক যাত্রী তুলে নির্জন এলাকায় নিয়ে ছিনতাই করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ঘটনায় চালকের সঙ্গে সহযোগীও থাকে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।গত ১৮ অক্টোবর দুপুরে চৌদ্দগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জিনিয়া জামান ছিনতাইয়ের শিকার হন। তিনি মিশুকে করে রোগী দেখতে ট্রেনিং সেন্টার থেকে হাড়িসর্দার এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে মহাসড়কের অফবিট হোটেলের সামনে পেছন থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে তাঁর হাতে থাকা ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। এতে অন্তঃসত্ত্বা ওই চিকিৎসক পড়ে গিয়ে আহত হন।নির্জন স্থানে নিয়ে নারীকে মারধরএর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে হাছিনা বেগম নামে এক নারী ছিনতাইয়ের শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও যাত্রীবেশে থাকা ছিনতাইকারীরা তাঁকে অচেতন করে মহাসড়কের ফালগুনকরা দিঘি ও মাজারের মাঝামাঝি একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে মারধর করে কানের দুটি দুল, মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।হাছিনা বেগমের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে চৌদ্দগ্রাম সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।পরপর এমন ঘটনায় মহাসড়কে চলাচলকারী নারী যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একা যাতায়াতের সময় অপরিচিত চালক ও যাত্রীবেশে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।টহল ও অভিযান জোরদারের দাবি পুলিশেরমহাসড়কে ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।মিয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নিরঞ্জন কুমার বলেন, মহাসড়কে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশও তৎপর রয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত আছে। মহাসড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে টহল দলকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে।চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোসাইন বলেন, এসব ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিছু সিএনজিচালিত অটোরিকশায় লোকজন বসে থেকে পথে যাত্রী তুলে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অবৈধ অটোরিকশা ও এসব অপরাধে জড়িত চালকদের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি ছিনতাইয়ের অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং যাত্রীবাহী যানবাহনের চালকদের পরিচয় যাচাই জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।