প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ ও গবাদিপশুর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি মুজিব কিল্লা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। উদ্বোধনের পর থেকে আশ্রয়কেন্দ্র দুটি তেমন কাজে আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের দেয়ালে ফাটল, জানালার গ্রিলে মরিচা, সোলার প্যানেল নষ্ট এবং কক্ষগুলো ধুলাবালিতে ভরে গেছে। সন্ধ্যার পর স্থাপনা দুটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের গোপালপুরে খাজা শাহ সুফি ইউনুস আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠে এবং জোড়খালী ইউনিয়নের কলাদহ মির্জা মোস্তফা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কিল্লা দুটি নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি সরেজমিনে স্থাপনা দুটির বেহাল অবস্থা দেখা গেছে।রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে স্থাপনাস্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগের সময় মানুষের আশ্রয়ের জন্য নির্মাণ করা হলেও কিল্লা দুটি কার্যত অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা না থাকায় ভবনের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হচ্ছে। চারপাশের মাটি রক্ষায় বসানো কংক্রিটের ব্লকও ধসে পড়েছে। ভবনের কক্ষগুলোতে ধুলাবালি জমেছে, সিলিং ফ্যান নেই এবং সোলার প্যানেলও নষ্ট হয়ে গেছে।গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান, মমিনুর রহমান ও হৃদয় হাসান জানান, নির্মাণের পর থেকে কিল্লাটি কোনো কাজে ব্যবহার হতে দেখেননি তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর কিল্লা দুটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হয়ে ওঠে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।একটির ব্যয় প্রায় দুই কোটি টাকাউপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালপুরের খাজা শাহ সুফি ইউনুস আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠের কিল্লাটি ‘মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় দুই কোটি টাকা। ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিল্লাটির উদ্বোধন করেন।অন্যদিকে, কলাদহ মির্জা মোস্তফা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্মিত কিল্লাটি ২০২০-২১ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালের ১৩ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটি উদ্বোধন করা হয়।প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় কিল্লাটি নির্মাণে সরকার ১ কোটি ৮০ লাখ ৩৭ হাজার ৬০২ টাকা বরাদ্দ দিয়ে দরপত্র আহ্বান করে। পরে মেসার্স স্বপ্না কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।সংস্কার ও ব্যবহারের দাবিউপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মোখলেস বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ব্যবহার করে এসব কিল্লা নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ অপচয় হয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনা কয়েক বছরের মধ্যে এভাবে পড়ে থাকা দুঃখজনক।তিনি দ্রুত কিল্লা দুটি সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।দুর্যোগের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের আশ্বাসএ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাজ উদ্দিন বলেন, দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের নিরাপদ আশ্রয়, মূল্যবান সামগ্রী ও গৃহপালিত প্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি স্বাভাবিক সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম, কমিউনিটি সভা, প্রশিক্ষণ ও অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আশ্রয়কেন্দ্র দুটি নির্মাণ করা হয়েছে।তিনি জানান, দুর্যোগের সময় কিল্লা দুটি যাতে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাগুলো কার্যকর রাখতে দ্রুত সংস্কার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।