দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অপেক্ষার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি শুরু করেছে আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি ও তিতুমীর এক্সপ্রেস। ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস স্টেশনে পৌঁছালে মিষ্টি বিতরণ ও ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে ট্রেনটিকে বরণ করে নেন তাঁরা।রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা এ আয়োজন করেন।নিয়ম মেনে সুবিধা ধরে রাখার আহ্বানসালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেল মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতির বিষয়েও আলোচনা চলছে।শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এ সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ট্রেনে ভ্রমণের সময় অবশ্যই টিকিট কাটতে হবে। দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করলেও স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করা যাবে না।তিনি বলেন, এসব নিয়ম মেনে চললে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হবে।বাকি তিন ট্রেনের যাত্রাবিরতির উদ্যোগসালাহউদ্দিন আম্মার জানান, মধুমতী, বনলতা ও পদ্মা এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসব ট্রেনের যাত্রীদের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাটল বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে পাওয়া এ সুবিধা স্থায়ী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষার্থীরা একসময় বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যাবেন। কিন্তু তাঁদের চলে যাওয়ার পরও যেন এ সুবিধা অব্যাহত থাকে, সে দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে।রাতে যাতায়াতে ভোগান্তি কমবেরাবি রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। স্টেশনটিতে ট্রেন না থামায় বিশেষ করে রাতে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে ক্যাম্পাসে ফিরতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতো।দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর সাগরদাঁড়ি ও তিতুমীর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।