চার দিনের সফরে আজ রাতে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা তারেক রহমানের; জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক মঙ্গলবারবাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাঁর টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্বসফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।এ ছাড়া এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।বাস্তবায়নে গুরুত্ব পেতে পারে ইপিএ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টি সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। চুক্তিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার সুযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।বিভিন্ন খাতে সমঝোতার সম্ভাবনাপররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।আলোচনায় রোহিঙ্গা ও জ্বালানি নিরাপত্তাদ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা।দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের সহযোগিতা আরও গভীর করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এ সফরকে ঘিরে।