চট্টগ্রাম নগরে পুলিশের হাতে জব্দ করা এক লাখ ইয়াবা বড়ি মামলা না করেই গায়েব করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় বহনকারী ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম নগরে ইয়াবা বহনের সময় বাকলিয়া থানা-পুলিশের এক দল সদস্য ওই চালানটি আটক করে। কিন্তু পরবর্তীতে থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনের নির্দেশে কোনো মামলা রুজু না করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং জব্দকৃত ইয়াবা বড়ির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি গত বছরের ৮ ডিসেম্বরের বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও কথোপকথনের মাধ্যমে। এরপর বিষয়টি তদন্তে আসে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গঠিত একটি কমিটির হাতে, যার নেতৃত্বে ছিলেন অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটজন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন উপপরিদর্শক, সহকারী উপপরিদর্শক ও কনস্টেবল পদমর্যাদার একাধিক সদস্য। তবে তৎকালীন ওসি আফতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করা হলেও প্রায় ছয় মাস পার হলেও এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। একই সঙ্গে জব্দ করা ইয়াবা উদ্ধার কিংবা মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত ওসি আফতাব উদ্দিন বর্তমানে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক