নাটোরের লালপুর উপজেলার ১৫৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও বিএম কলেজে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। টানা বৃষ্টিতে পুরো ক্যাম্পাস এখন কার্যত পানির নিচে, যেখানে মাঠ থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষের সামনের অংশ এবং পুরনো ভবনগুলোর আশপাশ পর্যন্ত হাঁটুসমান পানি জমে আছে।
বৃষ্টির পানির সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয় চত্বর জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। এমনকি কিছু শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সম্প্রতি টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বিদ্যালয়ের বিস্তীর্ণ মাঠে পানি জমে থাকায় সেখানে শিক্ষার্থীদের কাদা-পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও পানি প্রবেশ করায় পাঠদানের পরিবেশ প্রায় অচল হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষের আশপাশে মাছ ধরতেও দেখা গেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বর্ষা মৌসুমে প্রতিষ্ঠানটি জলাবদ্ধতার শিকার হলেও এর স্থায়ী সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছরই একই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।
শিক্ষকরা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে এবং পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়টির আশপাশে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই পুরো ক্যাম্পাস পানিতে তলিয়ে যায়।
অভিভাবকরা দ্রুত মাঠ ভরাট, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাজা শামীম ইলিয়াস হোসেন বলেন, প্রায় ১ হাজার ২০৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এ প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি।
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে দেশের অন্যতম পুরনো এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ জানান, তিনি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছেন এবং সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক